বিশ্ব ক্রিকেটকে আরও বিস্তৃত করা, নতুন দলগুলোর জন্য বড় মঞ্চে সুযোগ তৈরি করা এবং প্রতিযোগিতাকে আরও জমজমাট করে তুলতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বদলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের খেলার ধরন, বাছাই প্রক্রিয়া এবং নকআউটে ওঠার পথও। ফলে আগামী বছরগুলোতে ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখতে পাবেন সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকের বিশ্বকাপ।
২০২৭ সাল থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে নতুন ফরম্যাটে। এবারের আসরে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। তবে সব দল শুরু থেকেই মূল পর্বে খেলবে না। র্যাঙ্কিং বা বাছাইয়ে ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বরে থাকা তিনটি দল প্রথমে ‘সুপার সিরিজ’ নামে একটি প্রাথমিক পর্বে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে মুখোমুখি হবে।
এই পর্বে শীর্ষে থাকা একটি দল মূল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। বাকি দুই দলকে বিদায় নিতে হবে। এরপর আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া ১১ দলের সঙ্গে সুপার সিরিজের সেরা দল মিলিয়ে মোট ১২টি দল মূল পর্বে খেলবে।
মূল পর্বে ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল। গ্রুপপর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ছয়টি দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরের সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া আরও একটি দল জায়গা করে নেবে ‘সুপার সেভেন’ পর্বে।
সুপার সেভেনে সাতটি দল আবার একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম ও চতুর্থ দল একটি সেমিফাইনালে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দল অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরা খেলবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে।
শুধু ওয়ানডে নয়, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আসছে নতুন কাঠামো। ২০টি দল অংশ নিলেও এবার থাকছে না সুপার এইট পর্ব। প্রথম ধাপে পাঁচটি গ্রুপে চারটি করে দল খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি দল মিলিয়ে ১০টি দল উঠবে ‘সুপার টেন’ পর্বে।
সুপার টেনে ১০টি দলকে আবার দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে প্রতিটি গ্রুপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে এলিমিনেটর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এক গ্রুপের দ্বিতীয় দল খেলবে অন্য গ্রুপের তৃতীয় দলের বিপক্ষে। এই দুটি ম্যাচের বিজয়ীরাও সেমিফাইনালে উঠবে।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালে স্কটল্যান্ড সরাসরি ইউরোপ রিজিওনাল ফাইনালে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও যারা সরাসরি ২০২৮ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে পারবে না, তাদের খেলতে হবে গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে।
এই গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে আঞ্চলিক বাছাই থেকে আরও আটটি দল অংশ নেবে। আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে দুটি করে এবং আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একটি করে দল এই প্রতিযোগিতায় জায়গা পাবে।
সহযোগী দেশগুলোর উন্নয়নের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে আইসিসি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ১৬টি সহযোগী দেশকে নিয়ে একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, এসব দলকে আরও বেশি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়া। ২০২৬ সালের নভেম্বরে আইসিসির অর্থ কমিটির অনুমোদন মিললে নতুন এই টুর্নামেন্ট চালু হবে।
আইসিসির এই নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য বিশ্ব ক্রিকেটকে আরও বেশি দেশে ছড়িয়ে দেওয়া, উদীয়মান দলগুলোর বিকাশের সুযোগ বাড়ানো এবং বিশ্বকাপকে আগের চেয়ে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তোলা।




