২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে চমকের নাম যদি একটি দলকে বলতে হয়, তবে সেই তালিকায় প্যারাগুয়ের নাম থাকবেই। গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর রাউন্ড অব ৩২ এ শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এবার তাদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা দাবিদার ফ্রান্স।
শনিবার (৪ জুলাই) রাউন্ড অব ১৬ এ মুখোমুখি হবে দুই দল। কাগজে-কলমে ফেভারিট অবশ্যই ফ্রান্স। তবে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের পারফরম্যান্স দেখার পর প্রতিপক্ষকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই লিড নিয়েছিল প্যারাগুয়ে। দ্রুত গতির পাল্টা আক্রমণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ দিয়ে ইউরোপের চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে রাখে তারা। পরে জার্মানরা সমতায় ফিরলেও ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ফল না হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে যেখানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লাতিন দলটি।
অন্যদিকে ফ্রান্স এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের দলগুলোর একটি। চার ম্যাচে ১৩ গোল করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। আরও অবাক করার বিষয়, দলটির সবগুলো গোলেই সরাসরি অবদান রয়েছে কিলিয়ান এমবাপে কিংবা মাইকেল ওলিসের। এমবাপে গোল করছেন, ওলিসে তৈরি করে দিচ্ছেন সুযোগ এই জুটিই এখন ফরাসি আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
শুধু আক্রমণ নয়, মাঝমাঠে আদ্রিয়াঁ রাবিওর অভিজ্ঞতা এবং রক্ষণে উইলিয়াম সালিবার দৃঢ় উপস্থিতিও ফ্রান্সকে দিয়েছে ভারসাম্য। গ্রুপ পর্বের শুরুতে কিছুটা ধীরগতির মনে হলেও ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই নিজেদের আসল রূপে ফিরেছে 'লে ব্লু'রা।
তবে প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মানসিকতা। জার্মানিকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। দলটি জানে, নকআউট পর্বে একটি ভালো দিনই ইতিহাস বদলে দিতে পারে। রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ফ্রান্সকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইবে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
তবে ফ্রান্সের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা তাদের তারকাদের ফর্ম। এমবাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন, ওলিসে প্রতিটি ম্যাচেই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন। বেঞ্চের গভীরতাও দেশমকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে, যা দীর্ঘ টুর্নামেন্টে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ইতিহাস ও শক্তির বিচারে ফ্রান্সই স্পষ্ট ফেভারিট। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে, নামের চেয়ে পারফরম্যান্সই বড়। জার্মানিকে বিদায় দিয়ে সেই বার্তাই দিয়েছে প্যারাগুয়ে। এবার তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। প্রশ্ন একটাই জার্মানদের মতো এবার কি ফ্রান্সকেও চমকে দিতে পারবে প্যারাগুয়ে, নাকি এমবাপ্পেদের দাপটে থেমে যাবে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা?




