শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

তারকাদের ১ম ম্যাচ

মেসির ইতিহাস, এমবাপে-হলান্ডের জোড়া গোল, ভিনির জাদু আর প্রশ্নে রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মেসির ইতিহাস, এমবাপে-হলান্ডের জোড়া গোল, ভিনির জাদু আর প্রশ্নে রোনালদো

বিশ্বকাপ মানেই তারকাদের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। এখানে একটি মুহূর্ত একজন খেলোয়াড়কে নায়ক বানাতে পারে, আবার একটি ব্যর্থতার একটি ম্যাচ জন্ম দিতে পারে নতুন বিতর্কের। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষে বিশ্বসেরা ছয় তারকার গল্পও ছিল একেক রকম।

তারকাদের এই তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। এটি ছিল তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ১৬-তে। পাশাপাশি তিনি ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন।


বিজ্ঞাপন


শুধু তাই নয়, মেসি ইতিহাস গড়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েও। এতদিন পর্যন্ত ১৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক ছিলেন ক্লোসা একাই। সেই রেকর্ডেই ভাগ বসিয়েছেন মেসি। এবার পালা একাই শীর্ষে ওঠার।

এদিকে বর্তমান ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। সেনেগালের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় ফ্রান্সের ৩-১ জয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন তিনি। এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪-তে। ২০১৮ বিশ্বকাপে কিশোর হিসেবে যাত্রা শুরু করা এমবাপে এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। একই ম্যাচে জোড়া গোলে তিনি হয়েছেন ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিকও।

আবার, বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের হয়ে ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ জয়ে করেন জোড়া গোল। প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই দুই গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ক্লাব ফুটবলের গোল করার ধার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ধরে রাখতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শুরুটা ছিল মিশ্র অনুভূতির। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন তিনি। ৩২ মিনিটে তার গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ম্যাচে একটি শট থেকেই গোল করেন ভিনি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাস দেন এবং ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। তবে তার গোলও ব্রাজিলকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি।


বিজ্ঞাপন


পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে সবচেয়ে বেশি আলোচনার মধ্য দিয়ে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র করা ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি পুরো ৯০ মিনিট খেললেও গোল করতে পারেননি। ম্যাচে তিনি মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন, ৪৫ মিনিটের বেশি খেলা পর্তুগিজ খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম। দুটি বড় সুযোগও কাজে লাগাতে না পারায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান পর্তুগালের আক্রমণে তার ভূমিকা কী হওয়া উচিত। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা ও উপস্থিতিকেও এখনো পর্তুগালের বড় সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত লামিন ইয়ামালের বিশ্বকাপ শুরু হয় কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে। চোট থেকে সদ্য ফিরে আসা ১৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকা কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরুর একাদশে জায়গা পাননি। স্পেন গোলের জন্য যখন মরিয়া, তখন শেষের দিকে নেমে ১৯ মিনিট খেলেন তিনি। ইয়ামালের গতি ও ড্রিবলিং স্পেনের আক্রমণে কিছুটা প্রাণ ফেরালেও গোলশূন্য ড্র এড়াতে পারেননি।

প্রথম ম্যাচের পর তাই তারকাদের ছবিটা বৈচিত্র্যময়। মেসি বয়সকে হারিয়ে লিখেছেন নতুন ইতিহাস, এমবাপে ও হলান্ড জানিয়েছেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজেদের উপস্থিতি, ভিনিসিয়ুস দেখিয়েছেন নিজের গুরুত্ব। ওদিকে রোনালদো নিজের পারফর্ম্যান্স নিয়ে পড়েছেন প্রশ্নের মুখে, সমালোচনা হচ্ছে তাঁর দলে থাকা নিয়েও। আর ইয়ামালকে ঘিরে সমালোচনার জন্ম না হলেও তিনি ১৯ মিনিট খেলেই জানান দিয়েছেন কেনো স্পেনে তিনি অপরিহার্য।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, প্রথম ম্যাচ কখনো পুরো গল্প বলে না। ৯০ মিনিটে নায়ক বা খলনায়ক বদলে যেতে পারে। তাই এই তারকারা শেষ পর্যন্ত কোন গল্প লিখবেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

লিমন/আরএ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর