ফুটবল কখনও শুধু গোল কিংবা জয়ের গল্প নয়; কখনও এটি হয়ে ওঠে জীবনের কঠিন লড়াই জয়ের প্রতিচ্ছবি। হিউস্টনের আলোঝলমলে রাতে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করে সেই বাস্তবতাই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন ইয়োনে উইসা। কয়েক বছর আগেও যিনি অ্যাসিড হামলার শিকার হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় ছিলেন, তিনিই নিজের দেশকে এনে দিয়েছেন বিশ্বমঞ্চে এক স্মরণীয় মুহূর্ত।
গতকাল রাতে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা ছিল পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণে। খেলার ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র তখন চাপে পড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
তবে বিরতির পর বদলে যেতে শুরু করে ম্যাচের গল্প। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলকে দারুণ এক হেডে জালে পাঠান ইয়োনে উইসা। তার সেই গোলেই সমতায় ফেরে কঙ্গো এবং বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলের স্বাদ পায় আফ্রিকার দেশটি।
কিন্তু এই গোলের গুরুত্ব শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উইসার ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সংগ্রামের গল্প।

২০২১ সালের জুলাই মাসে নিজ বাড়িতে ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার শিকার হন এই ফরোয়ার্ড। এক নারীর হামলায় তার চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।
বিজ্ঞাপন
এরপর কয়েক মাস ধরে চলে চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে। পরে আদালতে দেওয়া বক্তব্যে উইসা জানান, ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্ক, অনিদ্রা এবং সামাজিক অস্বস্তির মধ্যে কাটিয়েছেন তিনি।
তবুও হার মানেননি এই ফুটবলার। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য মানসিক শক্তির মাধ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন। ফরাসি ক্লাব লরিয়ঁ থেকে ইংলিশ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।
তাই হিউস্টনের সেই গোল কেবল একটি ম্যাচে সমতা ফেরানোর মুহূর্ত নয়। এটি একজন মানুষের ভয়াবহ ট্র্যাজেডি থেকে উঠে এসে নতুন করে জীবন জয় করার গল্প। ইয়োনে উইসা এখন শুধু কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রথম বিশ্বকাপ গোলদাতা নন, তিনি সাহস, প্রত্যাবর্তন এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।




