ইংল্যান্ডের কাছে লুকা মদ্রিচ শুধু একজন ফুটবলার নন, যেন দুই দশকের এক দুঃস্বপ্নের নাম। ২০০৬ সালে প্রথম দেখা, এরপর ওয়েম্বলির হৃদয়ভাঙা রাত, মস্কোর বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল বারবার থ্রি লায়ন্সদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রোয়েশিয়ার ছোটখাটো এই মিডফিল্ড জাদুকর। ২০ বছর পর, হয়তো নিজের শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে, সেই মদ্রিচ আবার দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের সামনে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’এর উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড হয়তো এগিয়ে। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যামদের নিয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে তারা। কিন্তু ইংল্যান্ড ভালো করেই জানে ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে লুকা মদ্রিচ থাকা মানেই গল্পটা কখনোই সহজ নয়।
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মদ্রিচের গল্প শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। তখন তিনি ছিলেন মাত্র ২১ বছরের এক তরুণ মিডফিল্ডার। ইউরো ২০০৮ বাছাইপর্বে জাগরেবে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। পরের বছর ওয়েম্বলিতেও আরও বড় আঘাত আসে। ৩-২ গোলের সেই পরাজয়ে ইউরো ২০০৮-এ খেলার সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড। মদ্রিচ তখন থেকেই ইংলিশ ফুটবল সমর্থকদের কাছে এক ভয়ঙ্কর স্মৃতি।
তবে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে। সেমিফাইনালে কিরান ট্রিপিয়ারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু মদ্রিচের নেতৃত্বে ম্যাচে ফিরে আসে ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের সমতা ফেরানো গোল এবং অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের গোল ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দেয়। ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া যা ছিল দেশটির ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান।
আজকের মদ্রিচ অবশ্য আগের সেই তরুণ নন। বয়স এখন ৪০। এটি তার পঞ্চম বিশ্বকাপ, যা তাকে ফুটবল ইতিহাসের বিরল এক ক্লাবের সদস্য করেছে। বয়স বাড়লেও কমেনি তার দৃষ্টিভঙ্গি, পাসের নিখুঁততা কিংবা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের হৃদস্পন্দন এখনও তিনিই।
তবে সময় বদলেছে। ২০১৮ সালের সেই দুর্দান্ত ক্রোয়েশিয়া দলের অনেক মুখ আর নেই। বর্তমান দলটিকে তুলনামূলক কম গতিশীল মনে করা হচ্ছে। তবুও মদ্রিচ, মাতেও কোভাচিচ ও ইভান পেরিসিচের অভিজ্ঞতা এখনও ইংল্যান্ডের জন্য বড় হুমকি। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও স্বীকার করেছেন, এই অভিজ্ঞ কোরকে থামাতে তাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কাছেও এটি নতুন যুগের শুরু। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দলের দায়িত্বে টমাস টুখেল। বেলিংহ্যাম, কেইন, ফিল ফোডেনদের নিয়ে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। কিন্তু সেই পথের শুরুতেই সামনে সেই পুরোনো প্রতিপক্ষ, যার নেতৃত্বে আছেন ইংল্যান্ডের বহু রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া একজন মানুষ।
ফুটবল কখনো শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়, এটি স্মৃতি ও প্রতিশোধের গল্পও। দুই দশক ধরে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভাঙার সাক্ষী লুকা মদ্রিচ। প্রশ্ন একটাই ডালাসের রাতেও কি আরেকবার থ্রি লায়ন্সদের হতাশার কারণ হবেন ক্রোয়েশিয়ার এই অমর যোদ্ধা, নাকি এবার ইতিহাস বদলে নতুন অধ্যায় লিখবে ইংল্যান্ড?




