বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

পর্তুগালে রোনালদোর শেষ অধ্যায়ের শুরু, প্রথম বাধা কঙ্গো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

পর্তুগালে রোনালদোর শেষ অধ্যায়ের শুরু, প্রথম বাধা কঙ্গো

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চার দশকেরও বেশি বয়স পেরিয়েও যিনি দেশের জার্সিতে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। আরেকটি বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন পর্তুগালের এই কিংবদন্তি। অনেকের ধারণা, এটিই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ অভিযান। তাই পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচের মতো প্রথম ম্যাচটিও ঘিরে বাড়তি আগ্রহ ফুটবলপ্রেমীদের।

গ্রুপ ‘কে’-এর প্রথম ম্যাচে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে আফ্রিকার প্রতিনিধি কঙ্গোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। নকআউট পর্বের পথে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করতে চাইবে রবার্তো মার্তিনেজের দল। একই গ্রুপে রয়েছে কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান। ফলে গ্রুপপর্বে এগিয়ে থাকার লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচের তিন পয়েন্টকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে পর্তুগিজ শিবির।


বিজ্ঞাপন


পর্তুগালের শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়া এই ফরোয়ার্ডের সামনে রয়েছে আরেকটি অনন্য অধ্যায় লেখার সুযোগ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, নেশনস লিগসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। সেই অপূর্ণতা পূরণের লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নামছেন তিনি।

রোনালদোর বিশ্বকাপ ইতিহাসও কম সমৃদ্ধ নয়। ২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছালেও শিরোপার খুব কাছে যাওয়া হয়নি। এবার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে আরও দূরে নিয়ে যেতে চাইবেন এই তারকা।

শুধু রোনালদো নন, বর্তমান পর্তুগাল দলও বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। মাঝমাঠে সৃজনশীলতা, রক্ষণে দৃঢ়তা এবং আক্রমণভাগে গতি সব মিলিয়ে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তাদের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও সেই আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

তবে কঙ্গোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আফ্রিকার এই দেশটি দীর্ঘ ৫২ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৭৪ সালে ‘জায়ার’ নামে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল দেশটি। সেই সময় আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও বড় কোনো সাফল্য পায়নি তারা। এরপর বহু বছর ধরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরাই ছিল।


বিজ্ঞাপন


অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে কঙ্গো। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াটাই তাদের জন্য বিশাল অর্জন হলেও দলটি শুধু অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না। কোচ সেবাস্তিয়েন দেসাব্রের অধীনে গড়ে ওঠা দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলে ইতোমধ্যে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গোর মধ্যকার এই ম্যাচটি হবে দুই দলের ইতিহাসের প্রথম সাক্ষাৎ। এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলের কোনো আসর কিংবা প্রীতি ম্যাচেও মুখোমুখি হয়নি তারা। ফলে হিউস্টনের এই লড়াইয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। অভিজ্ঞতা ও শক্তিমত্তায় পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও প্রথম দেখার ম্যাচ হওয়ায় কঙ্গোকেও সমান সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

কঙ্গোর স্কোয়াডে রয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। তাদের গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং পাল্টা আক্রমণের দক্ষতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই ম্যাচের কাগজে-কলমে পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াই মোটেও সহজ হবে না।

ইতিহাস অবশ্য পর্তুগালের পক্ষেই কথা বলে। ইউরোপের শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি, বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা এবং তারকাবহুল দল তাদেরকে স্পষ্ট ফেভারিট বানিয়েছে। অন্যদিকে কঙ্গোর জন্য এটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মঞ্চ। বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই বড় কোনো চমক দেখাতে পারলে তা আফ্রিকান ফুটবলের জন্যও বিশেষ বার্তা হয়ে উঠবে।

ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে মূলত রোনালদোর দিকে। বয়সের ভারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এখনও তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবারের মতো জাদু দেখানোর সুযোগ যদি সত্যিই এটি হয়ে থাকে, তাহলে সেই গল্পের শুরুটা স্মরণীয় করতে চাইবেন তিনি।

এখন দেখার বিষয়, পর্তুগাল কি প্রত্যাশামতো জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে পারে, নাকি ৫২ বছর পর ফেরা কঙ্গো প্রথম ম্যাচেই বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক বিস্ময়ের জন্ম দেয়। হিউস্টনের রাত তাই শুধু একটি ম্যাচের নয়, বরং দুই ভিন্ন ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার গল্পও।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর