ইনজুরির অন্তহীন গোলকধাঁধা পেরিয়ে অবশেষে সুখবর পেল সেলেসাও সমর্থকেরা। ডান পায়ের কাফের ইনজুরির কারণে দীর্ঘ এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে অনুশীলন শুরু করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনে ব্রাজিলের ট্রেইনিং গ্রাউন্ডের সাইডলাইনে তাঁকে হালকা দৌড়াদৌড়ি ও অনুশীলন করতে দেখা গেছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অনুশীলনের মাধ্যমে নেইমার তাঁর পুনর্বাসন ও সুস্থতার প্রক্রিয়ায় ‘আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন’।
বিজ্ঞাপন
গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় কাফের ইনজুরিতে (গ্রেড-২ পেশির চোট) পড়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। এরপর আর কোনো অনুশীলনে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে মঙ্গলবার সিবিএফ-এর প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির কোচিং স্টাফের একজন সদস্যের অধীনে নেইমার প্রথমবার রানিং ড্রিল (দৌড়ানোর অনুশীলন) করছেন এবং হালকা কসরত করছেন।
চোট থাকা সত্ত্বেও আনচেলত্তি তাঁকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রেখেছিলেন মূলত দলের তরুণদের ওপর তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রভাবের কথা চিন্তা করে। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ ড্রয়ের দিনে নেইমার ডাগআউটে থাকলেও অফিশিয়াল কিট বা জার্সি পরে ছিলেন না।
সোমবার নেইমারের পায়ের আরেকটি মেডিকেল পরীক্ষা করানো হলেও সিবিএফ এখনও তার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেনি। তবে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি- দলটির মেডিকেল টিম নেইমারকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।
আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ ‘সি’-এর বাকি দুটি ম্যাচে নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নামবে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। তাকে মূলত নকআউট পর্বের জন্য পুরোপুরি ফিট করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসকেরা।
বিজ্ঞাপন
ইনজুরি যেন নেইমারের ক্যারিয়ারের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর তথ্য অনুযায়ী, চোট, পুনর্বাসন এবং বিশ্রামের কারণে গত কয়েক বছরে প্রায় ৭০০ দিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে এই ফরোয়ার্ডকে।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমার সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তাঁর বাঁ হাঁটুর লিগামেন্ট ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রায় আড়াই বছর পার হতে চললেও সেলেসাওদের হলুদ জার্সিতে আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর।
ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘নেইমার দ্রুত ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আমাদের প্রত্যাশা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সে দলের সাথে পুরোদমে যোগ দিতে পারবে। যখন আমরা তাকে স্কোয়াডে নিয়েছিলাম, তখন তার অনবদ্য টেকনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি দলে তার অভিজ্ঞতা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সে যে উদাহরণ তৈরি করে- সেটিকেও আমরা প্রাধান্য দিয়েছিলাম।’
মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগে যে ধারহীনতা লক্ষ্য করা গেছে, তা কাটাতে নেইমারের এই মাঠে ফেরার ইঙ্গিত সেলেসাও শিবিরে নিশ্চিতভাবেই বড় টনিক হিসেবে কাজ করবে।




