দীর্ঘ ২৬ বছর পর ফুটবলের বড় কোনো টুর্নামেন্টে প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখল নরওয়ে। আর এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দলটির পোস্টার বয় আর্লিং হালান্ড। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা। বিশ্বমঞ্চে নিজের অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার।
এই বড় জয়ের সুবাদে গোল ব্যবধানে ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে গ্রুপ ‘আই’-এর টেবিলের শীর্ষে উঠে বসেছে নরওয়ে। দিনের অন্য ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারায় ফরাসিরা।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচের শুরু থেকেই ইরাকের রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে নরওয়ের ‘সোনালী প্রজন্ম’। ম্যাচের ২৯ মিনিটে ডেভিড মোলার উলফের বাড়ানো নিচু ক্রসে চমৎকার ফিনিশিংয়ে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হালান্ড। বিশ্বকাপে এটিই তাঁর প্রথম গোল।
তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি ইরাক। ৩৯ মিনিটে আমির আল-আম্মারির ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ইরাককে সমতায় ফেরান আইমেন হুসেইন। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ইরাকের প্রথম গোল।
সমতার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যাওয়া হয়নি ইরাকের। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+২ মিনিটে) ইরাকি গোলরক্ষক জালাল হাসানের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেন হালান্ড। গোলরক্ষকের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স হালান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাত্র ৫১ ম্যাচে ৫৭ গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে নরওয়ে। ৭৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন বদলি হিসেবে নামা লিও ওস্টিগার্ড। আর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৪ মিনিটে) হালান্ডের একটি হেডার ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন ইরাকের গোলদাতা আইমেন হুসেইন। ফলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা ইরাকের জন্য মূল পর্বে পৌঁছানোর যাত্রাটি ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন। ২১ ম্যাচের এক দীর্ঘ বাছাইপর্ব পেরিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বশেষ দল হিসেবে কোয়ালিফাই করেছিল তারা। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা নরওয়ে এই জয়ে টুর্নামেন্টে দারুণ সূচনা করল।
আগামী ২২ জুন নিউ জার্সিতে গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি হবে টেবিলের শীর্ষ দুই দল ফ্রান্স ও নরওয়ে।




