বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

হলান্ডে উড়বে ইরাক, নাকি ঘটবে অঘটন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

হলান্ডে উড়বে ইরাক, নাকি ঘটবে অঘটন

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এমন কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো কাগজে-কলমে প্রথম ম্যাচ হলেও গুরুত্বের দিক থেকে প্রায় ফাইনালের সমান। বোস্টনের মঞ্চে ইরাক ও নরওয়ের মধ্যকার লড়াইটিও ঠিক তেমনই। গ্রুপে ফ্রান্সকে শীর্ষস্থানের প্রধান দাবিদার ধরা হচ্ছে। ফলে নকআউট পর্বের সম্ভাব্য দ্বিতীয় টিকিটের লড়াইয়ে এই ম্যাচের ফল দুই দলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফেরা দুই দলের জন্য তাই এটি শুধুই একটি ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ।

চার দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপের আসরে ফিরেছে ইরাক। ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলছে ‘লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়া’। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে, যা তাদের জন্য প্রায় তিন দশকের অপেক্ষার অবসান।


বিজ্ঞাপন


কোচ স্টেলে সোলবাকেনের নেতৃত্বে বাছাইপর্বে দারুণ ছন্দে ছিল নরওয়ে। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইয়ে তারা সব ম্যাচ জিতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের নজির গড়েছে। দলের আক্রমণের প্রধান ভরসা আর্লিং হলান্ড, যিনি পুরো বাছাইপর্ব জুড়ে গোলের পর গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। হলান্ডকে সহায়তা করবেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। মাঝমাঠে স্যান্ডার বার্গ ও ফ্রেডরিক আউরসনেসের পাশাপাশি উইংয়ে আন্তোনিও নুসা ও আলেকজান্ডার সরলথ নরওয়ের আক্রমণকে আরও গতিময় করে তুলবেন।

এদিকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ইরাককে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কোচ পরিবর্তনের পর গ্রাহাম আর্নল্ডের অধীনে দলটি নতুন ছন্দ খুঁজে পায়। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ পেরিয়ে মূল পর্বে ওঠার পর শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে তারা।

দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় গোলরক্ষক জালাল হাসান। রক্ষণে জায়েদ তাহসিন ও রেবিন সুলাকার ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব। মাঝমাঠে জিদান ইকবাল ও আমির আল-আম্মারি খেলায় গতি আনবেন, আর গোলের আশায় থাকবেন আইমেন হুসেইন ও আলী আল-হামাদি। বিশেষ করে সেট-পিসে ইরাকের দক্ষতা নরওয়ের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। বাছাইপর্বে তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গোল এসেছে ফ্রি-কিক, কর্নার ও পেনাল্টি থেকে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইরাকের স্মৃতি সুখকর নয়। ১৯৮৬ সালে তারা নিজেদের তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিয়েছিল। অন্যদিকে, নরওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে রয়েছে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত। ১৯৯৮ সালে তারা ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল, যা এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত সাফল্য।


বিজ্ঞাপন


ধারণা করা হচ্ছে, ইরাক সংগঠিত ফুটবল খেললেও নরওয়ের আক্রমণভাগের শক্তি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। হলান্ড, ওডেগার্ড, নুসা ও সরলথদের নিয়ে গড়া আক্রমণ সামলানো পুরো ম্যাচজুড়ে সহজ হবে না। সবকিছু বিবেচনায় নরওয়েকে ফেবারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর