কাতার বিশ্বকাপে লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই অবিশ্বাস্য ফাইনালের কথা মনে আছে? কিলিয়ান এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক, লিওনেল মেসির জোড়া গোল আর পেনাল্টি শুটআউটের সেই স্নায়ুযুদ্ধ- যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে অমর হয়ে আছে। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনালটি যিনি মাঠে থেকে দারুণ দক্ষতায় পরিচালনা করেছিলেন, সেই পোলিশ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক আবারও ফিরছেন আর্জেন্টিনার ম্যাচে।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বুধবার (১৭ জুন) সকালে কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘জে’-এর এই হাইভোল্টেজ উদ্বোধনী ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৪৫ বছর বয়সী মারচিনিয়াককে।
বিজ্ঞাপন
মারচিনিয়াককে বর্তমান বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা এবং নির্ভরযোগ্য রেফারি হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভিএআর এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে মাঠেই তাঁর নেওয়া তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তগুলো ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।
সবচেয়ে স্মরণীয় ছিল ম্যাচের এক সংকটময় মুহূর্তে ফরাসি ফরোয়ার্ড মার্কাস থুরামের পেনাল্টি বক্সের ভেতর ডাইভ (ডি বক্সের ভেতর ফাউলের ভান করে পড়ে যাওয়া) নিখুঁতভাবে ধরে ফেলা। টিভির পর্দায় লাখ লাখ দর্শক যখন প্রমাদ গুনছিলেন, মারচিনিয়াক তখন একদম শান্ত থেকে থুরামকে হলুদ কার্ড দেখান।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের সেই ফাইনালে তিনি মোট ৭টি হলুদ কার্ড দেখিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।
২০১১ সালে ফিফা তালিকাভুক্ত রেফারি হওয়া পোল্যান্ডের প্লোক শহরে জন্ম নেওয়া এই রেফারি কেবল বিশ্বকাপই নয়, ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চও সামলেছেন। ২০২৩ সালের ম্যানচেস্টার সিটি বনাম ইন্টার মিলানের মধ্যকার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালটি কোনো বড় বিতর্ক ছাড়াই পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর স্পেন বনাম ইংল্যান্ডের ফাইনালে ফোর্থ অফিশিয়াল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস তাঁকে বিশ্বের সেরা রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।




