সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সুইডেনের গোল বাঁচাল ক্রিকেটের স্নিকো প্রযুক্তি!

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সুইডেনের গোল বাঁচাল ক্রিকেটের স্নিকো প্রযুক্তি

ফুটবল মাঠে গোল লাইনের সিদ্ধান্ত বা অফসাইড নির্ধারণে ভিএআর বা সেমি-অটোমেটেড প্রযুক্তির ব্যবহার এখন নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে গোল নির্ধারণে ক্রিকেটের ‘স্নিকো’ প্রযুক্তির ব্যবহার! এমন এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। আজ সোমবার (১৫ জুন) মেক্সিকোর ‘স্তাদিও মনট্রে’-তে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সুইডেন। তবে ম্যাচটির স্কোরলাইন ছাপিয়ে ফুটবলবিশ্বে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ক্রিকেটের প্রযুক্তি দিয়ে ফুটবলের গোল টিকিয়ে রাখার এই ঐতিহাসিক ঘটনা।

ম্যাচে সুইডেন তখন আক্রমণের পসরা সাজিয়ে তিউনিসিয়াকে কোণঠাসা করে রেখেছে। ম্যাচের এক পর্যায়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ভলফসবুর্গের মিডফিল্ডার ম্যাতিয়াস সভানবার্গ। মাঠে নামার ঠিক ১৮ সেকেন্ডের মাথায় সেট-পিস থেকে আসা একটি বল চমৎকার ফিনিশিংয়ে তিউনিসিয়ার জালে জড়ান তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো বদলি খেলোয়াড়ের দ্রুততম গোল করার দ্বিতীয় সেরা রেকর্ড।


বিজ্ঞাপন


সুইডিশ শিবিরের বাঁধভাঙা উদযাপনের মাঝেই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন। সুইডেনের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা সঙ্গে সঙ্গে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। লিভারপুল ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাকের দাবি ছিল, বলটি সভানবার্গের কাছে যাওয়ার আগে তাঁর বুটে সামান্যতম ছোঁয়া লেগেছিল, যা সভানবার্গকে অনসাইডে রেখেছিল।

স্পর্শটি এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে খালি চোখে বা সাধারণ ভিডিও রিপ্লেতে তা ধরা অসম্ভব ছিল। তখনই ভিএআর অফিশিয়ালরা ক্রিকেট ম্যাচের মতো এক অভিনব প্রযুক্তির সাহায্য নেন। ক্রিকেটে ব্যাটের কানায় বল লেগেছে কি না তা ধরতে যেভাবে অডিও এবং ভিজ্যুয়াল স্পাইক ট্র্যাক করা হয়, ঠিক সেই ব্রডকাস্ট-স্টাইল ‘স্নিকো’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এই গোলের সূক্ষ্মতা মাপতে।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ‘ক্রসওভার’ প্রযুক্তির রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি যখন ইসাকের বুট পার হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে স্নিকোর গ্রাফে একটি স্পষ্ট স্পাইক (কম্পন) ভেসে ওঠে। অর্থাৎ, বলটিতে ইসাকের সূক্ষ্ম স্পর্শ ছিল! এই অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বদলে সুইডেনের পক্ষে গোলটি দেওয়া হয়। সভানবার্গও দ্বিতীয়বারের মতো গোল উদযাপনের সুযোগ পান।

প্রযুক্তির এই নাটকীয়তা ছাড়াও পুরো ম্যাচে গতির ঝড় তুলেছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান পরাশক্তিরা। ম্যাচের শুরুতেই ইয়াসিন আয়ারির এক বজ্রপাতে গোল উৎসব শুরু করে সুইডেন। এরপর দলের দুই প্রধান তারকা আলেকজান্ডার ইসাক এবং ভিক্টর গিওকেরেস তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে আরও দুটি গোল করেন। পরে ম্যাচের শেষভাগে আয়ারি নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করলে ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় সুইডেনের।


বিজ্ঞাপন


পুরো ম্যাচে সুইডিশদের গতি, নিখুঁত পাসিং আর প্রেসিং ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তিউনিসিয়া। মাঝেমধ্যে সেট-পিস থেকে কিছুটা আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও সুইডেনের ডিফেন্সের সামনে তা ভেস্তে যায়।

এই দাপুটে জয়ের পর ৩ পয়েন্ট এবং বিশাল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ ‘এফ’-এর টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল সুইডেন। আগামী ২০ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে, মনত্রের এই দুঃস্বপ্ন ভুলে একই দিনে জাপানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে তিউনিসিয়া।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর