সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা মরক্কো একাদশের সবারই জন্ম দেশের বাইরে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা মরক্কো একাদশের সবারই জন্ম দেশের বাইরে

বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর উত্থানের গল্প এখন আর শুধুই সাফল্যের নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ স্কাউটিং এবং বৈশ্বিক প্রবাসী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর এক অনন্য উদাহরণ। সেই যাত্রারই নতুন অধ্যায় রচিত হলো ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে মরক্কো এমন একটি শুরুর একাদশ নামায় যার প্রতিটি খেলোয়াড়ই দেশটির বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে বিরল এই ঘটনা মরক্কোর ফুটবল দর্শনের সফল বাস্তবায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় জন্ম নেওয়া মরক্কো বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের খুঁজে বের করে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার যে কৌশল কয়েক বছর আগে গ্রহণ করেছিল রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশন, আজ তার ফল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।


বিজ্ঞাপন


ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামা মরক্কোর একাদশে চারজন ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে, তিনজনের স্পেনে, দুজনের বেলজিয়ামে, একজনের নেদারল্যান্ডসে এবং একজনের কানাডায়। দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির জন্ম স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে, আর বিশ্বকাপে মরক্কোর অন্যতম ভরসার নাম গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর জন্ম কানাডার মন্ট্রিলে।

শুধু একাদশই নয়, বর্তমান ২৬ সদস্যের স্কোয়াডেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। দলের ২০ জন খেলোয়াড়ই মরক্কোর বাইরে জন্মেছেন। দেশের ঘরোয়া একাডেমিগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, সেটিই এখন মরক্কোর শক্তির অন্যতম ভিত্তি।

তবে এই দলকে শুধু ‘বিদেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের সমন্বয়’ বললে ভুল হবে। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ফুটবল পরিবেশে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলটি মাঠে অসাধারণ বোঝাপড়া এবং শৃঙ্খলার পরিচয় দিচ্ছে। তারই প্রমাণ মিলেছে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মরক্কো। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আক্রমণভাগের দ্রুত গতির ফুটবল ও সংগঠিত পরিকল্পনা ব্রাজিলিয়ান রক্ষণকে বেশ কয়েকবার বিপদে ফেলে।


বিজ্ঞাপন


তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। ৩২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফেরান। ডি-বক্সের ভেতরে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে নেওয়ার পর তার বাঁকানো শট গোলরক্ষক বোনোর নাগালের বাইরে চলে যায়।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত ছিল এবং পুরো ম্যাচে মোট ২৭টি শট নেওয়া হয়। ফলে দুই গোলরক্ষক, ইয়াসিন বোনো ও আলিসন বেকার দুজনকেই একাধিক দুর্দান্ত সেভ করতে হয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের প্রবল চাপের মুখেও নিজেদের রক্ষণভাগকে সংগঠিত রেখে ম্যাচে টিকে থাকে মরক্কো। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র তাদের জন্য শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার আরেকটি শক্তিশালী বার্তা হয়ে ওঠে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর