টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ নারী দল। তবে জয়টা মোটেও সহজ ছিল না। নেদারল্যান্ডসের নারীরা তাদের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচেই লড়াইয়ের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের বিধ্বংসী ফিফটি এবং শারমিন আক্তার-স্বর্ণা আক্তারের অবিচ্ছিন্ন সাহসী জুটির বদৌলতে ৫ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে টাইগ্রেসরা। তাও আবার বিশ্বকাপে রেকর্ড চেজ করে জিতেছে নিগার সুলতানারা।
২০২৩ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দল ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেছিল। আজ ডাচদের বিপক্ষে ১৪০ রান তাড়া করে জেতায় সেই আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল নিগার সুলতানার দল।
বিজ্ঞাপন
নেদারল্যান্ডস আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে। জবাবে বাংলাদেশ ১৯.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করে ম্যাচ জিতে নেয়। ম্যাচসেরা জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৩৩ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। জুয়াইরিয়া ও দিলারা আক্তার মিলে পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৭ রান তুলে দেন। জুয়াইরিয়া শুরুতেই ডাচ বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে যান। মাত্র ৩২ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস। তাঁর এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই মূলত ম্যাচের ভিত্তি তৈরি হয়।
কিন্তু জুয়াইরিয়া আউট হতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। একই ওভারে নাহিদা সুলতানা শূন্য রানে ফিরে যান। দিলারা আক্তারও ২৬ রান করে বিদায় নিলে বাংলাদেশ চাপে পড়ে। ১২ ওভার শেষে স্কোর ৮৫/৪। জয়ের পথটা হঠাৎই কঠিন হয়ে ওঠে।
ঠিক সেই মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে নিরাপদ বন্দরে পৌঁছে দেয়। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন (৪টি চার), আর স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করেন। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে, শান্ত মাথায় প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়েছেন দুজনে। শেষ পর্যন্ত ৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টাইগ্রেসরা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে নেদারল্যান্ডসের হয়ে অধিনায়ক বাবেট ডি লিডে ৪৫ বলে ৫০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। শুরুতে পেবে মলকেনবোয়ার ও হিদার সিগার্স দ্রুত রান তুললেও বাংলাদেশের বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে চাপ ধরে রাখেন। মারুফা আক্তার ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার। রিতু মনি ছিলেন অসাধারণ মিতব্যয়ী। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান। ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।
শেষ দিকে আইরিস জুইলিং (১৩*) ও সিলভার সিগার্স (১০*) কিছুটা রান যোগ করলেও বাংলাদেশের ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের কারণে স্কোর ১৪০ ছাড়াতে পারেনি ডাচরা।




