বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্বকাপ উপলক্ষে কারাগার বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কারা থাকবে সেখানে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বকাপ উপলক্ষে কারাগার বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কারা থাকবে সেখানে?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীদের নিরাপত্তার অজুহাতে ২৫.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি নতুন ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি বা অস্থায়ী জেলখানা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটি কর্তৃপক্ষ। প্রতিশ্রুতি ছিল, বিশ্বমঞ্চের দলগুলো মাঠে নামার আগেই সচল হবে এই আধুনিক কারাগার। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে বিশ্বকাপ দুয়ারে কড়া নাড়লেও শেষ করা যায়নি এর নির্মাণকাজ। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের এই প্রকল্পটির উপযোগিতা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, আর সমালোচনার মুখে পড়ে নিজেদের আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন নগর পরিচালনাকারীরা।

আগামী ১৬ জুন ক্যানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক ১৫ দিন আগে, অর্থাৎ ১ জুনের মধ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই ডিটেনশন সেন্টারটি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু মালামাল সরবরাহে ঘাটতি এবং কর্মী সংকটের কারণে এই সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


২০০৯ সালের পর থেকে ক্যানসাস সিটিতে নিজস্ব কোনো পৌর কারাগার নেই। বর্তমানে শহরে কোনো ছোটখাটো অপরাধ বা অনিয়মের জন্য কেউ গ্রেপ্তার হলে, পুলিশ কর্মকর্তাদের হয় তাদের স্থানীয় টহল স্টেশনে আটকে রাখতে হয় অথবা ৫০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত জনসন কাউন্টি বা ভার্নন কাউন্টির কারাগারে পাঠাতে হয়।

Screenshot_2026-06-11_163358

বিশ্বকাপ উপলক্ষে ক্যানসাস সিটিতে লাখ লাখ বিদেশি ফুটবলপ্রেমী ও পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনা আছে। ফলে এই সময়টাতে শহরে অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। তখন আটক কাজ যেন কঠিন না হয়ে পড়ে সে আরণেই এই অস্থায়ী কারাগার বানাতে চেয়েছিল নগর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ শেষ করতে না পারায় এখন এই কারাগার সংকটকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন নগর কর্মকর্তারা। সিটি ম্যানেজার মারিও ভাসকুয়েজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সিটি ম্যানেজার জেফ মার্টিন এবং কাউন্সিলম্যান ওয়েস রজার্স- সবাই জনসমক্ষে এই প্রকল্পের তাগিদকে সরাসরি বিশ্বকাপের সাথে জুড়ে দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের এক কাউন্সিল সভায় রজার্স স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, "আমরা প্রস্তুত থাকি আর না থাকি, বিশ্বকাপ কিন্তু চলে আসছে। তাই আমাদের দ্রুত এই জেলটি তৈরি করতে হবে।"

মূল পরিকল্পনা ছিল, এই অস্থায়ী ১০০ শয্যার মডুলার জেলটি আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে, যা পরবর্তীতে একটি স্থায়ী ১৫১ মিলিয়ন ডলারের কারাগার নির্মাণের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন শূন্যতা পূরণ করবে। বর্তমানে সিটি ম্যানেজারের কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বিশ্বকাপ চলাকালীন এই ডিটেনশন সেন্টারে কাউকেই বন্দি রাখা সম্ভব হবে না। নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশ তৈরিতে প্রস্তুতকারকদের বিলম্ব এবং কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়াকেই এর মূল কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর