আজ বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। কিন্তু এই ফুটবল মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, বুধবার রাতে স্বাগতিক মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে শত শত মানুষের বিক্ষোভে।
বিক্ষোভকারীদের সিংহভাগই মেক্সিকোতে বিভিন্ন সময়ে ‘নিখোঁজ হওয়া’ মানুষের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। তাদের অভিযোগ, মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ অথবা দেশটির কুখ্যাত অপরাধী চক্র কর্তৃক তাদের প্রিয়জনদের হত্যা অথবা অপহরণ করা হয়েছে, যার কোনো সুষ্ঠু বিচার বা খোঁজ আজ পর্যন্ত মেলেনি।
বিজ্ঞাপন
স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মারিয়া দে জেসুস সোরিয়া আগুয়ায়ো নামের এক মা ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম কেবল তাঁর ফুটবল খেলা নিয়েই ব্যস্ত।” মারিয়া গত এক দশক ধরে ভেরাক্রুজ রাজ্যে নিখোঁজ হওয়া তার সন্তানকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। মেক্সিকোর বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও বলেন, “দেশে একের পর এক নিখোঁজের ঘটনা ঘটেই চলেছে, অথচ শিনবাউম এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপই নিচ্ছেন না।”
বিক্ষোভের সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের একটি দল ফুটপাথের ওপর ‘সেম্পাসুচিল’ যা এক ধরণের গাঁদা ফুল, যা মেক্সিকান সংস্কৃতিতে মৃতদের স্মরণে উৎসর্গ করা হয়) ফুল দিয়ে একটি ক্রুশের আকৃতি তৈরি করে নিখোঁজদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিলেও পুলিশের সাথে সরাসরি কোনো সংঘর্ষে জড়াননি এবং বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ ছিল।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে মেক্সিকান পুলিশ ইতিমধ্যেই স্টেডিয়ামের চারপাশে প্রায় ১.৬ কিলোমিটার (১ মাইল) জুড়ে এক অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনে কোনো বাধা দেওয়া হবে না, তবে স্টেডিয়ামের মূল সীমানায় কেবল বৈধ টিকিটধারীরাই প্রবেশ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো সরকার বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশজুড়ে বড় ধরণের নাগরিক আন্দোলনের মুখোমুখি হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনদের এই প্রতিবাদের পাশাপাশি দেশটির শিক্ষকেরাও উন্নত কর্মপরিবেশ ও বেতনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে আসছেন, যা বিশ্বকাপের এই বৈশ্বিক মঞ্চে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ও সামাজিক সংকটকে বিশ্ববাসীর সামনে আবারও উন্মোচিত করল।




