লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ১১৫ রানের দুর্দান্ত জয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে সময় লাগেনি ইংল্যান্ড দলে। টিম কারফিউ বা শৃঙ্খলা ভাঙা এবং চেলসির এক নাইটক্লাবে মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে বর্তমানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ক্রিকেট রেগুলেটরের যৌথ তদন্তের মুখোমুখি নিয়মিত টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন।
এই বড় শৃঙ্খলাভঙ্গের জের ধরে আজ বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন এই দুই তারকা। তাদের পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন সাসেক্সের ফাস্ট বোলার জোফরা আর্চার এবং এসেক্সের ব্যাটার জর্ডান কক্স। অভিজ্ঞ জো রুটকে এই ম্যাচের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ১৭ থেকে ২১ জুন লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম টেস্ট জয়ের পর রবিবার রাতে লন্ডনের চেলসি এলাকার ‘রেক্স রুমস’ নাইটক্লাবের ভিআইপি জোনে অবস্থান করছিলেন স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। অ্যাশেজ সিরিজের পর থেকে দলে জারি করা মধ্যরাতের কারফিউ ভেঙে তাঁরা সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। একই ক্লাবে ইংলিশ রাগবি ক্লাব ‘সারাসেন্স’-এর খেলোয়াড়রা তাদের মৌসুম শেষের উদযাপন করছিলেন।
সেখানেই সারাসেন্সের ২১ বছর বয়সী ও ১২৫ কেজি ওজনের বিশালদেহী সামোয়ান রাগবি তারকা তোতোয়া আউভার সাথে ইংলিশ ক্রিকেটারদের কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। জানা গেছে, আউভার ছোঁড়া একটি ঘুষি ক্রিকেটারদের সাথে থাকা ইসিবির এক নিরাপত্তা প্রহরীর গায়ে লাগে এবং তিনি আহত হন। ইসিবি জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ক্রিকেটাররা না করলেও কারফিউ ভাঙার দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ৩৫ বছর বয়সী বেন স্টোকস। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর জোরালো গুঞ্জন- চরম হতাশা থেকে দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারেরই ইতি টানতে পারেন এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার। বিষয়টি নিয়ে আজই নিজের উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে স্টোকসের। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে জরুরি বোর্ড সভায় বসে ইসিবির কার্যনির্বাহী কমিটি।
বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, স্টোকস হয়তো বোর্ডের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুট করেই নিজের অবসরের ঘোষণা দিয়ে বসতে পারেন। তবে ইসিবি ক্রিকেটীয় অ্যাকশন নেওয়ার আগে স্টোকসকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পর্যাপ্ত সময় দিয়েছে। চরম নাটকীয়তার মাঝে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, শেষ মুহূর্তের প্রতিবেদনে আভাস পাওয়া গেছে যে স্টোকস হয়তো ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর মতো এত বড় ও কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত কিছুটা পিছিয়ে এসেছেন।
বিজ্ঞাপন
২০১৭ সালে ব্রিস্টলে ঠিক এ ভাবেই এক পানশালায় মারপিট করেছিলেন স্টোকস। এর পর অ্যাশেজ থেকে বাদ পড়েছিলেন। ক্রিকেটে আর ফিরতে পারবেন কি না তা নিয়েও শঙ্কা ছিল। আদালতেও দৌড়াতে হয়েছিল তাকে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটে ফিরে দলকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়েছিলেন তিনি, ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে জিতিয়েছিলেন বিশ্বকাপও। ২০২১-এ মানসিক সমস্যার কারণে বিরতি নিয়েছিলেন। এবার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে ফের নাইটক্লাব বিতর্কের মুখোমুখি কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার।




