অধিনায়ক জাকির হাসানের ঝড়ো সেঞ্চুরীর সাথে ইফতেখার আহমেদ ইফতি ও রাতুলের টর্নেডো ইনিংসে সফরকারী জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলকে প্রথম ওয়ানডেতে ৮৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ৩৬৪ রানের জবাবে ২৭৯ রানে অলআউট জিয়েছে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল।
৩৬৫ রানের আকাশ সমান টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল জিম্বাবুয়ের যুবারা। ওপেনার ইনোসেন্ট কায়া এবং ম্যাথিউ ক্যাম্বেল ৯ দশমিক ৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৬০ রান তুলে শক্ত প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় ৬০ রানে ইনোসেন্ট কায়া ব্যক্তিগত ২৬ রানে আলিস আল ইসলামের লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়লে প্রথম ছন্দ পতন ঘটে।
বিজ্ঞাপন
এরপর ৫৬ রানে ৫ উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা। ম্যাথিউ ক্যাম্বেল একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি আদায় করলেও আর কেউ দাঁড়াতে পারেনি। ক্যাম্বেল ৫৬ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কার বিনিময়ে ৫২ রান করেন। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন উইসলে মাধেভেরে।
স্বাগতিক বোলারদের বিপক্ষে মাত্র ৮৬ বলে সেঞ্চুরী তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাধেভেরে ৯৩ বলে ১১৬ রান করে আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনের বলে ইফতেখার আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলে ৪৮ দশমিক ৫ ওভারে ২৭৯ রানে থামে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের ইনিংস। মাধেভেরে ১৩টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন সোহানুদদৌলা বর্ষন ও সামিউন বাশির। দুজনেই ৩টি করে উইকেটন শিকার করেন। এছাড়া আলিস আল ইসলাম ২টি এবং খালেদ ও সাকলাইন ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
এর আগে অধিনায়ক জাকির হাসানের সেঞ্চুরী এবং ইফতেখারের ঝড়ো ফিফটির পর রাতুলের ব্যাটিং ঝড়ে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সামনে ৩৬৫ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
বিজ্ঞাপন
সোমবার বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ১১ রানে ওপেনার শাহাদতকে হারালেও ইফতেখার আহমেদ ইফতিকে সাথে নিয়ে দলনেতা জাকির হাসান ব্যাটিং তান্ডব শুরু করেন। দুজনে মাত্র ১২৩ বলে ১৫৮ রানের পার্টনারশীপ গড়ে দলকে বড়ো সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন। দলীয় ১৬৯ রানে সাজঘরে ফেরার আগে ৫৮ বলে ৭০ রান করেন ইফতেখার। ৬টি বাউন্ডারি এবং ৩টি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল ইফতির ইনিংস।
এরপর অমিত হাসানকে সাথে ঝড়ো গতির আরেকটি জুটি গড়ে তোলেন অধিনায়ক জাকির। মাত্র ৮৪ বলে দূর্দান্ত সেঞ্চুরী তুলে নেন জাকির। ৬২ রানের জুটি গড়ার পর দলীয় ২৩১ রানে ব্যক্তিগত ১১৯ রনে থামে জাকিরের রাজকীয় ইনিংস। এরপর অমিত হাসানের ৩১, ইয়াসির রাব্বীর ৩৪ এবং আকবর আলীর ২৭ রানের পর শুরু হয় রাতুলের টর্গেডো ইনিংস।
সামিউন বাশির রাতুল মাত্র ১৮ বলে ৩টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কায় করেন ৪১ রান। শেষ পর্যন্ত সবক’টি উইকেট হারিয়ে ৩৬৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ইনিংস। জিম্বাবুয়ে এ দলের আরনেষ্ট মাশুকু ৩টি, আন্তুম নাগভি এবং মাইকেল ফ্রষ্ট ২টি করে উইকেট শিকার করেন। বুধবার সিরিজের ২য় একদিনের ম্যাচ হবে বগুড়ায়।
বিসিবি দর্শকদের জন্য বিনা টিকিটে খেলা দেখার সুযোগ করে দিলেও মাঠে দর্শক উপস্থিতি ছিল কম। অতীতে মাঠের বেশির ভাগ গ্যালারী দর্শকপূর্ন থাকলেও গতকালের চিত্র ছিল সম্পুর্ন আলাদা। সামিয়ানায় ঢাকা একটি গ্যালারী দর্শকে ভরা থাকলেও গোটা ষ্টেডিয়াম ছিল প্রায় ফাঁকা। পরের ম্যাচে স্টেডিয়ামের পুরো গ্যালারীতে সামিয়ানা টানানোর দাবী তুলেছে দর্শকরা।




