রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হবে ইরান দলকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্রে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হবে ইরান দলকে

রাজনৈতিক বৈরিতা ও কঠোর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে এক অভূতপূর্ব ও চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহ জানিয়েছেন, ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে টেক্সাস বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মাটিতে পা রাখলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ম্যাচের দিন সকালেই প্রবেশের অনুমতি পাবেন ইরানি ফুটবলাররা এবং ম্যাচ শেষ হতেই ওই দিন রাতেই তাদের দেশ ছাড়তে হবে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইরানি দূত আবুলফজল পাসান্দিদাহ মার্কিন সরকারের এই কঠোর ও নজিরবিহীন ইমিগ্রেশন আইনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইরানি নাগরিকদের ওপর আমেরিকার দীর্ঘদিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার জের ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভিসা বিধিনিষেধের কারণে আমরা কেবল ম্যাচের দিন সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারব এবং ম্যাচ শেষ করে একই দিন রাতের মধ্যে আমাদের দেশ ত্যাগ করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" 


বিজ্ঞাপন


একটি হাই-ভোল্টেজ বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নামার আগে ফুটবলারদের যে ধরণের মানসিক ও শারীরিক বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, আমেরিকার এই ‘ইন-অ্যান্ড-আউট’ নীতির কারণে ইরান দলের জন্য তা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে তীব্র সংঘাতের কারণে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বের পরিকল্পনাও সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে ইরানের। শুরুতে আমেরিকার অ্যারিজোনার টাকসনে ক্যাম্প করার কথা থাকলেও নিরাপত্তার খাতিরে সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। আমেরিকার মাটি ছেড়ে তারা এখন তাদের বিশ্বকাপের মূল প্রস্তুতি ক্যাম্প বা বেস স্থাপন করেছে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোতে।

আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যার মধ্যে ২টি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং বাকি ১টি ম্যাচ ওয়াশিংটনের সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এখন প্রতি ম্যাচের দিন মেক্সিকো থেকে ফ্লাইটে এসে আমেরিকায় খেলে রাতেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে ইরানি টিমকে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক যুদ্ধ হুট করে শুরু হয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক অস্থির ও ভয়াবহ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইরানও দমে না গিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। 


বিজ্ঞাপন


এমনকি বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট 'হরমুজ প্রণালী' তে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ ও ব্যাহত করে আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে ইরান।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর