ইউরোপীয় ফুটবলের দলবদল এবং বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনার মাঝেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ঘটে গেল এক পটপরিবর্তন। গত মৌসুমে রেকর্ড ২০তম লিগ শিরোপা জেতার পর, চলতি ২০২৫/২৬ মৌসুমে ট্রফিশূন্য থাকা এবং লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করার খেসারত দিতে হলো লিভারপুল বস আর্নে স্লটকে। গত শনিবার অলরেডদের ডাগআউট থেকে স্লটকে বরখাস্ত করার পর, বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) লিভারপুল তাদের নতুন মাস্টারমাইন্ড হিসেবে স্প্যানিশ কোচ আন্দোনি ইরাওলার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।
বোর্নমাউথকে ইতিহাস গড়া সাফল্য এনে দেওয়া ৪৩ বছর বয়সী এই বাস্ক কোচের সাথে মার্সিসাইডের ক্লাবটি দুই বছরের চুক্তি করেছে বলে ব্রিটিশ মিডিয়ায় জোর গুঞ্জন।
বিজ্ঞাপন
ইয়ুর্গেন ক্লপের বিদায়ের পর প্রথম মৌসুমেই বাজিমাত করলেও, দ্বিতীয় মৌসুমে এসে স্লটের ‘কন্ট্রোলড ফুটবল’ বা অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল লিভারপুলের চেনা ছন্দকে বিষিয়ে তুলেছিল। পরিস্থিতি এতটাই বিগড়ে যায় যে ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া মিশরীয় কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহ প্রকাশ্যেই ক্লপ জমানার সেই আক্রমণাত্মক ‘হেভি মেটাল ফুটবল’ ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন।
সালাহর সেই ইচ্ছার সাথে পুরোপুরি মিলে যায় ইরাওলার ফুটবল দর্শন, যিনি হাই-প্রেসিং ও অল-আউট অ্যাটাকিং ফুটবলের জন্য বিখ্যাত। অ্যানফিল্ডের নতুন দায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বসিত ইরাওলা বলেন, "লিভারপুল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও বিশেষ একটি ক্লাব। এখানকার দর্শক, ঐতিহ্য এবং বিশ্বসেরা তারকাদের কোচিং করিয়ে শিরোপার জন্য লড়াই করার সুযোগ হাতছাড়া করা অসম্ভব। আমি ভক্তদের মন জয় করে তাদেরই একজন হতে চাই"।
২০২৩ সালে স্প্যানিশ ক্লাব রাও ভায়েকানো থেকে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর পর থেকে বোর্নমাউথকে বদলে দিয়েছেন এই সাবেক অ্যাথলেটিক বিলবাও ডিফেন্ডার। তার অধীনে চেরি-রা প্রতি বছর নিজেদের উন্নত করে প্রিমিয়ার লিগে যথাক্রমে ১২, ৯ এবং সবশেষে এই মৌসুমে অবিশ্বাস্যভাবে ষষ্ঠ স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছে। ইরাওলার এই জাদুকরি ট্যাকটিক্সের ওপর ভর করেই বোর্নমাউথ তাদের ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় (ইউরোপা লিগ) খেলার টিকিট কেটেছে। তরুণ প্রতিভা যেমন- অ্যালেক্স স্কট ও এলি জুনিয়র ক্রুপিদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার কারিগর হিসেবেও ইংলিশ ফুটবলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
লিভারপুলের এই মৌসুমটি ছিল মূলত বিষাদ ও চরম অস্থিরতায় ভরা। গত বছরের জুলাই মাসে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ডিয়োগো জোতার অকালমৃত্যু লিভারপুল ড্রেসিংরুমকে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলাতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ দলবদলের বাজারে ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের (৬০৫ মিলিয়ন ডলার) বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করলেও নতুন সাইনিংদের কেউই মাঠের পারফরম্যান্সে আলো ছড়াতে পারেননি।
বিজ্ঞাপন
গত সেপ্টেম্বর থেকেই লিভারপুলের পারফরম্যান্সে ধস নামে। সালাহর সাথে স্লটের প্রকাশ্য কোন্দল এবং মাঠের ভেতর দলের প্রাণহীন ফুটবল দেখে অ্যানফিল্ডের সমর্থকরাও স্লটের ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে ফেলেন।
লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের চেয়ে ২৫ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে কোনোমতে পঞ্চম স্থানে শেষ করে লিভারপুল, যা তাদের ট্রফিশূন্য মৌসুমের ক্ষততে কিছুটা পুষিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট এনে দিয়েছে।




