ফরাসি ফুটবলের দৈত্য প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইতিহাস গড়েছে। টানা পঞ্চমবারের মতো লিগ আঁ শিরোপা জয়ের পর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলে দলটি নিজেদের আধিপত্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে কোচ লুইস এনরিকের শিষ্যরা আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম হয়। গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভের অসাধারণ সেভ এবং অধিনায়ক মারকিনিয়োসের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব দলের সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখায় দলটি আরও গতিশীল ও সমন্বিত ফুটবল উপহার দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্যারিসের ক্লাবটি ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের জায়গা আরও পাকাপোক্ত করল।

কাতারি মালিকানাধীন ক্লাবটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত যুব ব্যবস্থা এবং বিপুল আর্থিক সামর্থ্য এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, পিএসজির এই আর্থিক আধিপত্য ফরাসি লিগে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে।
এদিকে শিরোপা জয়ের পর প্যারিসের রাস্তায় উদযাপনের যে আবেগ দেখা গিয়েছিল, তা দ্রুত রূপ নেয় ব্যাপক সহিংসতায়। বিশেষ করে শঁজেলিজে এলাকায় হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আতশবাজি, পতাকা নেড়ে উদযাপনের মাঝে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং একাধিক যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা।
বিজ্ঞাপন
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, সংঘর্ষে অন্তত দু’জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পুলিশ পাঁচ শতাধিকের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে। টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
২০২৫-২৬ মৌসুম পিএসজির জন্য সোনালি অধ্যায় হলেও, শিরোপা উদযাপনের রাতটি প্যারিসের জন্য হয়ে উঠেছে বেদনাদায়ক। ফুটবলের আনন্দ যেন আবারও মনে করিয়ে দিল বিজয়ের উল্লাস কখনো কখনো অন্ধকারের দিকেও নিয়ে যেতে পারে।




