আরেকবার ইউরোপসেরা হওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল আর্সেনালের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছে শিরোপা ছুঁয়েও শেষ মুহূর্তে হাত ফসকে গেল গুনারদের। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুট মাথায় তুলল। বুদাপেস্টের মাঠে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে সমতায়। কিন্তু পেনাল্টির নাটকে ভাগ্য সহায় হয়নি আর্সেনালের। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ঘরে তুলে ফরাসিরা।
ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাটা একদম দারুণ কাটছিল আর্সেনালের। মাত্র ৫ মিনিটে কাই হ্যাভার্টজ বল নিয়ে পিএসজির বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন। চারপাশে কোনো সতীর্থ দেখতে না পেয়ে নিজেই জোরালো শট নেন। গোলকিপার মেদভেই সাফানোভ কিছুই করতে পারেননি। আর্সেনাল তখনই ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
পুরো প্রথমার্ধে পিএসজি একটুও সুবিধা করতে পারেনি। আর্সেনালের রক্ষণ ছিল অসাধারণ। দলটা এতটাই সতর্ক ছিল যে, স্ট্রাইকারদেরও নিজেদের বক্সের কাছে নেমে এসে ডিফেন্ড করতে দেখা গেছে। বুকায়ো সাকাকেও অনেক নিচে নেমে খেলতে হয়েছে।
কিন্তু অতিরিক্ত সাবধানতাই কাল হলো। ৬১ মিনিটে আর্সেনালের এক ডিফেন্ডার বক্সের ভেতর কভিচা কভারাৎসখেলিয়াকে ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি পায় পিএসজি। উসমান দেম্বেলে সহজেই গোল করে সমতা ফেরান ১-১।
এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট কিংবা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কেউ আর গোল করতে পারেনি। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। পিএসজির প্রথম শটে গনসালো রামোস ঠান্ডা মাথায় গোল করেন। আর্সেনালের ভিক্তর ইয়োকেরেশও গোল করে জবাব দেন।
দ্বিতীয় শটে দেজিরে দুয়ে পিএসজিকে এগিয়ে দেন। আর্সেনালের এজে শট মারেন বাইরে। কিন্তু আশা এখনও ছিল। নুনো মেন্দেসের শট দারুণভাবে বাঁচিয়ে দেন দাভিদ রায়া। ডেক্লান রাইস গোল করে আবার সমতা ফেরান।
বিজ্ঞাপন
চতুর্থ শটে আশরাফ হাকিমি ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি দুজনেই সফল হন। পঞ্চম শটে পিএসজির বেরালদো গোল করলে চাপ চলে যায় আর্সেনালের উপর। আর তখনই গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েশ (যিনি পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলেছিলেন) বলটা আকাশে মেরে বসেন।
শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলে টাইব্রেকারে জিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তুলল পিএসজি।
এসটি/




