২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর স্মৃতি এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল। সেই মরুর বুকে জ্বলে ওঠা উন্মাদনা থিতিয়ে যাওয়ার পর এবার সবার চোখ উত্তর আমেরিকার দিকে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চলুন এক নজরে দেখে নিই শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার পাঁচ দলের বর্তমান অবস্থা ও প্রস্তুতি।
ফ্রান্স
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টে নামছে ফ্রান্স। গত সাত বিশ্বকাপে চারবার ফাইনালে ওঠা এবং দুবার শিরোপা জেতা লে ব্লুজরা এবারও হট ফেভারিট। দীর্ঘদিন ধরে দলকে সামলানো কোচ দিদিয়ের দেশমের এটাই শেষ বিশ্বকাপ অভিযান। এই আবেগীয় পরিবেশ দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে এবং কলম্বিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে রিজার্ভ শক্তির গভীরতা দেখিয়েছে তারা।
স্পেন
ইউরো ২০২৪ জয়ের পর লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল যেন জয়ের স্বাদ ভুলতেই পারছে না। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল (১৮) এই দলের প্রাণ। তবে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে প্রথম দুটি গ্রুপ ম্যাচে তাকে পাওয়া অনিশ্চিত। ফের্মিন লোপেজ ও মিকেল মেরিনোও চোটে আক্রান্ত। এত প্রতিকূলতার মাঝেও ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি এবং মাঝমাঠের জাদুকর পেদ্রির উপস্থিতি স্পেনকে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ করে রেখেছে।
আর্জেন্টিনা
বিজ্ঞাপন
২০২২ সালে মেসির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেওয়ার পর আর্জেন্টিনা এখন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। ইন্টার মিয়ামির হয়ে এ বছর এমএলএসে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ এখন প্রায় ঘরের মাঠের মতো। লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং উদীয়মান মিডফিল্ডার নিকো পাজের মতো তারকারা আক্রমণভাগকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছে।
পর্তুগাল
বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের বাধা এখনও টপকাতে না পারা পর্তুগাল এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও বড় শক্তি এখন তাদের মিডফিল্ড। ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্ডো সিলভা ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের সমন্বয় দলকে ভয়ংকর করে তুলেছে। বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারলেও, রোনালদো ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তাদের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে।
ব্রাজিল
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এখন এক সন্ধিক্ষণে। ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবলের সংকট কাটাতে তারা ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির শরণাপন্ন হয়েছে। ২০০২ সালের পর মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পারা সেলেসাওরা বাছাইপর্বেও ভুগেছে। তবে আনচেলত্তির দর্শন স্পষ্ট নিখুঁত দল নয়, বিশ্বকাপ জেতে সেই দল যারা প্রতিকূলতায় সবচেয়ে বেশি লড়াকু ও সহনশীল।




