২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ বি হয়ে উঠতে চলেছে এক টানটান উত্তেজনার ময়দান। স্বাগতিক কানাডা, ইউরোপের দুই শক্তিশালী প্রতিনিধি সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং এশিয়ার লড়াকু কাতার চার দলের এই লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই হবে নাটকীয়তায় ভরপুর।
ইউরোপের দুই দল সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের আগুনে পুড়বে পুরো গ্রুপ। একদিকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৯ নম্বর দল সুইজারল্যান্ড, যাদের স্কোয়াডের বাজারমূল্য প্রায় ৩২২ মিলিয়ন ইউরো। গ্রেগর কোবেলের গোলবার, আকানজির দুর্ভেদ্য ডিফেন্স, গ্রানিত জাকার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আর এমবোলো-ওকাফরের আক্রমণাত্মক ধার। সব মিলিয়ে তারা এই গ্রুপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, যাদের মাঝমাঠের যুদ্ধে কেউ সহজে সুবিধা করতে পারবে না। এডিন জেকোর অভিজ্ঞতা, ডেমিরোভিচের তীক্ষ্ণতা আর কোলাসিনাচের লড়াকু মনোভাব এই ত্রয়ী যেকোনো প্রতিপক্ষকে রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। ফিফা র্যাঙ্কিং ৬৫ হলেও তাদের স্কোয়াড মূল্য প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ইউরো, যা তাদের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ দেয় না।
তবে এই গ্রুপের সবচেয়ে বড় অজানা উপাদান হলো স্বাগতিক কানাডা। ঘরের মাঠ, উন্মত্ত দর্শকদের চিৎকার আর জাতীয় গর্ব এসবই তাদের অদৃশ্য অস্ত্র। আলফোনসো ডেভিসকে চোটের কারণে না পেলেও জোনাথন ডেভিডের নেতৃত্বে তারা ইতিহাস গড়তে চায়। বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, আয়োজক দেশ কখনো কখনো অসম্ভবকে সম্ভব করে। টরোন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে কানাডার লাল-সাদা জার্সি যখন ছুটবে, তখন গোটা স্টেডিয়াম কাঁপবে।
আর কাতার? সবচেয়ে কম স্কোয়াড মূল্য (প্রায় ১৮ মিলিয়ন ইউরো) হলেও তারা কখনোই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। আকরাম আফিফ ও আলমোয়েজ আলীর মতো তারকারা এক মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তারা প্রতিরক্ষা শক্ত করে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় থাকবে।
ইউরোপের দুই দলের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হবে, তাতে কানাডার ঘরের সুবিধা আর কাতারের চমক যোগ করলে পুরো গ্রুপটাই হয়ে উঠবে বিস্ফোরক। সুইজারল্যান্ড যদি ফেভারিট হয়, তাহলে কানাডা হবে সেই ‘ঘরের ছেলে’ যাকে কেউ অবহেলা করতে পারবে না। বসনিয়ার লড়াকু মনোভাব আর কাতারের কৌশলী খেলা। সব মিলিয়ে এই গ্রুপ থেকে কোন দুটি দল শেষ ষোলোয় উঠবে, তা এখনই বলা মুশকিল।




