আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। আর এই বিশ্বকাপকে আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে অ্যাডিডাস এনেছে তাদের নতুন অফিসিয়াল বল ট্রাইওন্ডা। এটি শুধু একটি বল নয়, বরং খেলার প্রতিটি মুহূর্তকে নিখুঁতভাবে ধরে রাখার এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক।
তিন আয়োজক দেশের সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। স্প্যানিশ ভাষায় ‘ত্রি’ অর্থ তিন এবং ‘ওন্ডা’ অর্থ ঢেউ বা তরঙ্গ। তিন দেশের পতাকার রঙ নীল, লাল ও সবুজ সুন্দরভাবে মিশিয়ে বলের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে। বলের প্যানেলগুলো ঢেউয়ের মতো বাঁকা, যা তিন দেশের ঐক্য ও উৎসবের ভাইবকে তুলে ধরে।
বিজ্ঞাপন

ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ভেতরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বলের মধ্যে বসানো হয়েছে ৫০০ হার্জ মোশন সেন্সর। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করে। ফলে বল কখন, কোন গতিতে, কোন দিকে যাচ্ছে এবং কোন খেলোয়াড় কখন স্পর্শ করেছে, সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে।
সেন্সরটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, গতি বা বাউন্সে কোনো পরিবর্তন না আসে। ফলে খেলোয়াড়রা পুরোনো বলের মতোই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

বিজ্ঞাপন
এই সেন্সর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করবে। স্টেডিয়ামের ক্যামেরা ও বলের সেন্সর একসঙ্গে কাজ করে প্রতিটি ঘটনার সঠিক বিশ্লেষণ প্রদান করবে। অফসাইড, ফাউল কিংবা গোললাইনের সিদ্ধান্তে ভুলের সম্ভাবনা অনেক কমে আসবে।
ম্যাচ শুরুর আগে বলটি চার্জ করতে হবে। একবার পুরোপুরি চার্জ করলে এটি টানা ৬ ঘণ্টা চালু থাকবে। বাইরে থেকে দেখে কিছুই বোঝা যাবে না যে ভেতরে এমন উন্নত প্রযুক্তি লুকিয়ে আছে।
অ্যাডিডাস জানিয়েছে, এই বল টেস্টিংয়ের মাধ্যমে আয়োজক শহরগুলোর আবহাওয়া ও মাঠের অবস্থা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সব ধরনের পরিস্থিতিতে সেরা পারফরম্যান্স দেয়।
বিশ্বকাপের এই নতুন বল শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। ট্রাইওন্ডা প্রমাণ করবে প্রযুক্তি ও ঐতিহ্য একসঙ্গে মিলে কীভাবে খেলাকে আরও সুন্দর ও ন্যায্য করে তুলতে পারে।




