বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠে প্রায়ই দেখা যায় রক্তের সম্পর্কের টানাপোড়েন। তবে এবারের আসরে আসছে এক অনন্য দৃশ্য, একই পরিবারের দুই ভাই দুই ভিন্ন দেশের জার্সিতে লড়বেন। ফ্রান্সের উদীয়মান তারকা দেজিরে দুয়ে এবং তার বড় ভাই গেলা দুয়ে দুজনের জন্ম এক শহরে, বেড়ে ওঠা একসঙ্গে, কিন্তু জাতীয় দল বেছে নিয়েছেন আলাদা পথে। এই গল্প শুধু ফুটবলের নয়, পরিবার, শিকড় আর স্বপ্নেরও।
দুয়ে ভাইদের জন্ম ফ্রান্সের অ্যাঞ্জার্স (আনশেই) শহরে। মা ফরাসি, বাবা আইভরিয়ান। এ কারণে দুজনেরই দুই দেশের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল। ছোট ভাই দেজিরে বেছে নিয়েছেন মায়ের দেশ ফ্রান্সকে, আর বড় ভাই গেলা বাবার দেশ আইভরি কোস্টকে।
বিজ্ঞাপন
পিএসজির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দেজিরে দুয়ে এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। অন্যদিকে আরসি স্ট্রাসবুর্গের নির্ভরযোগ্য রাইট-ব্যাক গেলা দুয়ে আইভরি কোস্টের হয়ে মাঠ মাতাবেন। দুজনেই স্তাদে রেনের একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন এবং একসময় একই দলে খেলেছেন।
মজার ব্যাপার হলো, দেজিরে মাত্র ১৬ বছর বয়সে রেনের হয়ে অভিষেক করেন বড় ভাইয়ের আগেই। ক্লাব পর্যায়ে ২০২৩ সালের আগস্টে তারা প্রথমবার অফিসিয়াল ম্যাচে একসঙ্গে খেলেন। পরে আরও কয়েকবার একসঙ্গে মাঠে নামেন। কিন্তু ২০২৪ সালে দেজিরে পিএসজিতে যোগ দেন বিপুল অঙ্কের ট্রান্সফারে, আর গেলা যান স্ট্রাসবুর্গে।
পরিবারে ফুটবলের ধারা শুধু এই দুই ভাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের কাজিন ইয়ান গবোহো তুলুসে, মার্ক-অলিভিয়ের দুয়ে স্পেনের ক্লাবে এবং এডি দুয়ে পর্তুগালে খেলেন। চাচা নুমঁদিয়া দুয়ে আইভরিয়ান রেফারি হিসেবে ২০১৪ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
গেলা দুয়ে ২০২৪ সালের মার্চে আইভরি কোস্টের হয়ে অভিষেক করেন। এখন পর্যন্ত ১৯ ম্যাচে দুটি গোল করেছেন এবং সাম্প্রতিক আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও খেলেছেন। অন্যদিকে দেজিরে গত বছর ফ্রান্সের হয়ে অভিষেকের পর মাত্র ছয় ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের গ্রুপে আছে সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাক। আইভরি কোস্টের গ্রুপে জার্মানি, ইকুয়েডর ও কুরাসাও। নকআউট পর্বে দুই দলের দেখা হলে দুই ভাই একে অপরের বিপক্ষে লড়বেন এমন সম্ভাবনা রয়েছে। সেই দৃশ্য বিশ্ব ফুটবলের জন্য হবে একেবারে বিরল ও আবেগঘন।




