বিশ্বকাপের আগে ফুটবলারদের জন্য বোনাস কাঠামো ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএফএ)। বর্ধিত ৪৮ দলের এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের প্রতিটি সাফল্যকে পুরস্কৃত করতে রেকর্ড পরিমাণ বোনাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টানা ১১তমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড় প্রত্যেকে পাবেন ৫০ মিলিয়ন ওন করে বেসিক পারিশ্রমিক, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এই অঙ্ক ছিল মাত্র ২০ মিলিয়ন ওন।
বিজ্ঞাপন
তবে আসল বড় অঙ্ক শুরু হবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে ওঠার পর থেকে। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে রাউন্ড অব ৩২-এ পৌঁছালেই প্রতি খেলোয়াড় পাবেন ১০০ মিলিয়ন ওন বোনাস, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ লাখ টাকা। এরপর নকআউট পর্বের প্রতি ধাপে বোনাস ১০০ মিলিয়ন ওন করে বাড়বে।
শেষ ষোলোয় উঠলে পাবেন ২০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা), কোয়ার্টার ফাইনালে ৩০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা), সেমিফাইনালে ৪০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা), ফাইনালে উঠলে ৫০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা) এবং চ্যাম্পিয়ন হলে সর্বোচ্চ ৬০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা)। তৃতীয় স্থান অর্জন করলে মিলবে ৪৫০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।
এছাড়া প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল অনুসারেও আলাদা জয়ের বোনাস রাখা হয়েছে। গ্রুপ পর্বে জয়ের জন্য ৩০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা) এবং ড্রয়ের জন্য ১০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা)। নকআউট পর্বে এই অঙ্ক আরও বেশি। রাউন্ড অব ৩২-এ জিতলে ৫০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা), শেষ ষোলোয় জিতলে ৮০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা), কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলে ১৪০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা), সেমিফাইনালে জিতলে ২০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) এবং ফাইনাল জিতলে অতিরিক্ত ৩০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা)।
কেএফএর হিসাব বলছে, দল যদি বিশ্বকাপ জিততে পারে তাহলে বোনাস ও ম্যাচ পারফরম্যান্স মিলিয়ে প্রতি খেলোয়াড়ের মোট প্রাপ্তি ১ বিলিয়ন ওনের বেশি হবে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি।
বিজ্ঞাপন
শুধু আর্থিক পুরস্কার নয়, খেলোয়াড়দের পরিবারের জন্যও বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে কেএফএ। প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবেন দুটি ডাবল হোটেল রুম এবং প্রতি ম্যাচের জন্য চারটি ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট, যাতে পরিবারের সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে থেকে খেলা দেখতে পারেন।
কেএফএ কর্মকর্তা বলেন, 'ইতিহাসে প্রথমবার তিন দেশে যৌথ আয়োজনে এবং বর্ধিত ফরম্যাটে বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ অনেক বেশি হবে। তাই তাদের সর্বোচ্চ স্তরের পুরস্কার ও সমর্থন দিয়ে বড় অনুপ্রেরণা জোগাতে চাই।'




