আগামী ১২ জুন থেকে ইংল্যান্ডের মাটিতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। আর এই মেগা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অতীতের মলিন রেকর্ড পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ার ব্যাপারে তীব্র আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জতি। সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) প্রথম প্রহরেই স্কটল্যান্ডের বিমান ধরেছে টাইগ্রেসদের প্রথম বহর, আর বাকি সদস্যরা দেশ ছাড়বেন ২৬ মে।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের অতীত পরিসংখ্যান মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। এযাবৎকালের ৬টি আসরে মোট ২৫টি ম্যাচ খেলে টাইগ্রেসদের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৩টি জয়। এর আগে শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়গুলো পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুবাইতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপেও স্কটল্যান্ডকে হারালেও বাকি ৩ ম্যাচে হেরে গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল দলকে। তবে এবার সেই চেনা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া জ্যোতিরা।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের জন্য দেশ ছাড়ার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন অধিনায়ক জ্যোতি, জানালেন প্রস্তুতি আর প্রত্যাশার কথা। বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে নিগার সুলতানার দল। এই সিরিজ এবং বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে চান টাইগ্রেসরা।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জ্যোতি দলের প্রস্তুতি ও নতুন কম্বিনেশন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "গত বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের দলগত কম্বিনেশন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। গত সিরিজের পর থেকে আমরা আমাদের ঘাটতিগুলো নিয়ে কাজ করেছি। যদিও সাম্প্রতিক কিছু ম্যাচে ফলাফল আমাদের পক্ষে আসেনি, কিন্তু দলের ভেতর অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে আমাদের বোলিং ইউনিট দারুণ ফর্মে আছে এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়মিত অবদান রাখছেন। যারা ফর্মে আছে, তাদের ওপর ভরসা রেখেই আমরা বিশ্বকাপ স্কোয়াড সাজিয়েছি।"
দলের বোলিং আক্রমণের দুই প্রধান অস্ত্র মারুফা আক্তার এবং নাহিদা আক্তারের ভূয়সী প্রশংসা করেন জ্যোতি। আগে বাংলাদেশ দল কেবল এক-দুজন সিনিয়র খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, বর্তমান দলে পারফর্ম করার মতো একাধিক ক্রিকেটার রয়েছে যা দলের গভীরতা বাড়িয়েছে।
টাইগ্রেসদের বলেন, "এখন দলে নতুন ক্রিকেটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলছে। মারুফা ও নাহিদার মতো বোলাররা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য পুরো দল ক্ষুধার্ত হয়ে আছে। আমরা যদি মাঠে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে ‘কালেক্টিভ ক্রিকেট’ বা দলগত পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিতে পারি, তবে গতবারের চেয়ে অনেক বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব।"
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ৫ ম্যাচের মধ্যে অন্তত তিন ম্যাচে জয়ের আশা দেখছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা আছে। আমি মনে করি এবার আমরা যে গ্রুপে আছি, আমাদের সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো সুযোগ আছে যেন আমরা অন্তত তিনটা ম্যাচ জিততে পারি।’




