ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে এই প্রথম এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন ঘটনার সাক্ষী হলো চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে)। ২০২৬ আইপিএল মৌসুমে দলের স্কোয়াডে থাকা সত্ত্বেও টুর্নামেন্টের একটি বলও না খেলেই মাঠ ছাড়তে হলো মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। পায়ের গুরুতর চোটের কারণে গ্রুপ পর্বের সবকটি অর্থাৎ ১৪টি ম্যাচেই ডাগআউটে বসে কাটাতে হয়েছে সাবেক এই সিএসকে অধিনায়ককে।
গত বৃহস্পতিবার গুজরাট টাইটান্সের কাছে চেন্নাইয়ের হারের পর সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই ধোনির ভবিষ্যৎ এবং আগামী মৌসুমে তার খেলোয়াড় হিসেবে থাকা বা সাপোর্ট স্টাফে রূপান্তর হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যার স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন দলের বোলিং কোচ এরিক সাইমনস।
বিজ্ঞাপন
ধোনি মাঠের বাইরে থাকায় সিএসকে এই মৌসুমটিকে তরুণ ক্রিকেটারদের পরখ করে নেওয়ার একটি রূপান্তরকালীন পর্যায় হিসেবে ব্যবহার করেছে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে উরভিল প্যাটেল, কার্তিক শর্মা এবং আয়ুষ মাত্রের মতো একঝাঁক তরুণকে নিয়মিত মাঠে নামানো হয়।
এদের মধ্যে কার্তিক শর্মা মিডল অর্ডারে চমৎকার ব্যাটিং করে স্থায়ী জায়গার জন্য শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তবে উরভিল প্যাটেল এবং দক্ষিণ আফ্রিকান তরুণ ডেওয়াল্ড ব্রেভিস কেবল দু-একটি ইনিংসে সামান্য ঝলক দেখানো ছাড়া নিজেদের নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি।
আগামী মৌসুমে ধোনির প্রত্যাবর্তন চেন্নাইয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ধোনির খেলার ব্যাপারে ফ্র্যাঞ্চাইজি আশাবাদী কি না, এমন প্রশ্নে সিএসকে বোলিং কোচ এরিক সাইমনস হেসে বলেন, "আপনারা কি সত্যিই আমাকে এই প্রশ্ন করছেন? আমরা তো সবসময়ই ওকেই মাঠে দেখতে চাই। সত্যি বলতে, নেটে ও যেভাবে বল হিট করছে, আমি আমার লাইফে ওকে এত চমৎকার ব্যাটিং করতে খুব কমই দেখেছি। কিন্তু ওর পায়ে চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে মাঠে ওর পক্ষে রানিং বিটুইন দ্য উইকেট বা দৌড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আর এই কারণেই ও একটা ম্যাচও খেলতে পারেনি।"
ধোনির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাইমনস স্পষ্ট করে দেন যে, চেন্নাই টিম বা ম্যানেজমেন্ট নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেবেন স্বয়ং ধোনি। সাইমনস বলেন, "আমি সবসময় বলি, একমাত্র এমএস-ই জানে ও কখন পুরোপুরি ফিট হবে। ও যদি মনে করে ও দলের জন্য অবদান রাখতে পারবে না, তবে ও কখনোই জোর করে খেলবে না। ও নিজের ব্যক্তিগত রেকর্ডের জন্য খেলে না, যা সিদ্ধান্ত নেবে দলের ভালো চিন্তা করেই নেবে। তবে ও মাঠে খেলুক বা না খেলুক, ড্রেসিংরুমে ওর উপস্থিতি, ওর অগাধ জ্ঞান এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা দলের বাকি তরুণদের জন্য এক বিশাল পাওয়া।"




