ক্লাব ফুটবলের টাকার পাহাড় আর জাঁকজমকের কারণে গত কয়েক মৌসুমে বড় বড় কোচরা আন্তর্জাতিক ফুটবলের দায়িত্ব নিতে খুব একটা আগ্রহ দেখাতেন না। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ এই চেনা সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এবারের মেগা আসরে ট্রফি জয়ের সোনালী হাতছানি এড়াতে পারেননি ফুটবল বিশ্বের পাঁচ মাস্টারমাইন্ড কোচ। চলুন বিশ্লেষণ করা যাক, বিশ্বজয়ের এই মহাযজ্ঞে কোন পাঁচজন হাই-প্রোফাইল কোচ ডাগআউটে বসে চাল চালবেন।
১. ইংল্যান্ডের ট্রফি খরা কাটাতে ‘গান ফর হায়ার’ টমাস টুখেল
১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে থ্রি লায়ন্সদের কোনো বড় ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ মেটাতে এবার চেলসির উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী মাস্টারমাইন্ড টমাস টুখেলকে নিয়োগ দিয়েছে ইংলিশ এফএ। গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে দল ইউরোর ফাইনাল খেললেও বড় ম্যাচে তাঁর ট্যাকটিক্যাল দুর্বলতা বারবার সামনে এসেছে। জার্মান কোচ টুখেল ক্লাব ফুটবলে সফল হলেও, প্রিমিয়ার লিগের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মৌসুমের ধকল পার করে আসা জুড বেলিংহামদের নিয়ে আমেরিকার চরম আবহাওয়ায় তিনি কীভাবে নিজের রণকৌশল সাজান, সেটাই দেখার বিষয়। সম্প্রতি ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করা এই জার্মান কোচের ওপর রয়েছে কোটি ভক্তের প্রত্যাশার চাপ।
বিজ্ঞাপন
২. সেলেসাওদের হেক্সা মিশনের ত্রাতা কার্লো আনচেলত্তি
২৪ বছরের ট্রফি খরা আর ইউরোপীয় দলগুলোর কাছে নকআউটে বারবার হেরে যাওয়া- ব্রাজিল ফুটবলের এই চিরচেনা সংকট কাটাতে তারা এবার শরণাপন্ন হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের সফলতম কোচ ইতালির কার্লো আনচেলত্তির। রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভেতরের সেরা রূপটা বের করেছিলেন এই আনচেলত্তিই। সাম্বার ঐতিহ্যবাহী ধারার চেয়ে বর্তমান ব্রাজিলের স্কোয়াড কিছুটা ম্লান হলেও, আনচেলত্তির শান্ত মস্তিষ্ক ও ড্রেসিংরুমের ইগো সামলানোর সহজাত ক্ষমতা সেলেসাওদের ষষ্ঠ নক্ষত্র বা 'হেক্সা' এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিদেশী কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ডাগআউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।
৩. পচেত্তিনোর সামনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগ্নিপরীক্ষা’
আর্জেন্টাইন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যায়টি খুব একটা সুখকর হয়নি। ঘরের মাঠে কানাডা, মেক্সিকো কিংবা পানামার মতো দলের কাছে হেরে গোল্ড কাপ ও নেশনস লিগ থেকে বিদায় নেওয়ার পর স্থানীয় মিডিয়ার তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। মার্চে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর পচেত্তিনোর কৌশল এখন চরম প্রশ্নের মুখে। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে এবার তাঁর দলের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার এটাই শেষ সুযোগ।
৪. উরুগুয়ের ডাগআউটে এক ‘একনায়ক’ মার্সেলো বিয়েলসা
পেপ গার্দিওলা যাঁকে নিজের ফুটবল গুরু মানেন, সেই মার্সেলো বিয়েলসার সম্ভবত বিশ্বমঞ্চে এটাই শেষ এসপার-ওসপার। বাছাইপর্বে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে উরুগুয়েতে নতুন ভোরের আশা দেখালেও বিয়েলসার অতিরিক্ত কড়া নিয়মকানুন নিয়ে দলে বিদ্রোহের সুর শোনা যাচ্ছে। দল থেকে অবসর নিয়ে লুইস সুয়ারেজ অভিযোগ করেছেন, বিয়েলসার নির্মম সমালোচনায় ড্রেসিংরুমে কেঁদে ফেলেছিলেন ডারউইন নুনেজ। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫-১ গোলের হারের পর উরুগুয়ের ফর্ম গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী। ২০০২ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া বিয়েলসা এবার উরুগুয়েকে নিয়ে কতদূর যান, তা নিয়ে ফুটবল পাড়ায় কৌতূহল তুঙ্গে।
৫. জার্মানির হৃত গৌরব ফেরানোর লড়াইয়ে তরুণ তুর্কি নাগেলসম্যান
মাত্র ৩৮ বছর বয়সে জার্মানির মতো পরাশক্তির কোচের দায়িত্বে থাকা ইউলিয়ান নাগেলসম্যান দুই বছর আগের ইউরোতে ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও, জার্মানির খেলায় সেই পুরোনো ঝাঁঝ ফিরিয়ে এনেছেন। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের অন্ধকার যুগ- যেখানে জার্মানি পরপর দুবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন এই বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক বস। তবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলার (৫ম ট্রফি) এই মিশনে তার মূল মাথাব্যথা দলের তিন প্রধান তারকা- মুসিয়ালা, ভির্টজ এবং হাভার্টজের অফ-ফর্ম ও চোট। নাগেলসম্যানের ট্যাকটিক্যাল জাদুই এখন ডাই মানশাফটদের একমাত্র ভরসা।




