বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

২০২৬-এ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড কি ২০২২-এর মতো শক্তিশালী নেই?

সালমান ইসলাম
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

২০২৬-এ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড কি ২০২২-এর মতো শক্তিশালী নেই?

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনার জন্য এক আবেগের নাম। আর সেই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি ছিল তাদের মিডফিল্ড। রদ্রিগো ডি পল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজদের সমন্বয়ে তারা মাঝমাঠ দাপিয়ে খেলেছে। এই ত্রয়ীসহ মিলে এমন এক ভারসাম্য তৈরি করেছিলেন, যা লিওনেল মেসিকে খেলতে দিয়েছিল নিজের মতো করে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে সেই মিডফিল্ড কি আগের মতো ভয়ংকর আছে?

কাতারে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড শুধু বল দখল করত না, পুরো ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করত। ডি পলকে ধরা হতো দলের ইঞ্জিন। তিনি দৌড়েছেন, প্রেস করেছেন, জায়গা তৈরি করেছেন। এনজো মাঝমাঠ থেকে বল বিলি করে আক্রমণ তৈরি করেছেন। আর অ্যালিস্টার ছিলেন দলের ভারসাম্যের প্রতীক আক্রমণ ও রক্ষণ, দুই দিকেই সমান কার্যকর। 


বিজ্ঞাপন


এই ত্রয়ীর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল কেমিস্ট্রি। তারা বুঝে খেলতেন একে অপরকে। ফলে মেসি খেলছেন তার সাচ্ছন্দ্য মতো, সামনে থেকে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন এই মহাতারকা।

তবে চার বছর পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। মেসি এখন আরও বয়সী। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া দলে নেই। ফলে মাঝমাঠের ওপর দায়িত্ব অনেক বেড়েছে।

ডি পল এখনও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন গতি ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অন্যদিকে এনজো এখন অনেক বেশি পরিণত। চেলসিতে খেলে তিনি আরও সম্পূর্ণ মিডফিল্ডারে পরিণত হয়েছেন।

argentina_football_teamm


বিজ্ঞাপন


ম্যাক অ্যালিস্টারও বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত। লিভারপুলে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

এদিকে কোচ লিওনেন স্কালোনি ২০২৬-এর আর্জেন্টিনায় শুধু পুরনো খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করছে না। থিয়াগো আলমাদা, নিকো পাজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোদের মতো তরুণদেরও প্রস্তুত করছেন। 

বিশেষ করে নিকো ও আলমাদা মাঝমাঠে নতুন সৃজনশীলতা আনতে পারেন বলে মনে করা হয়, স্কালোনির খেলার কৌশলে। তবে এখনো তারা ২০২২-এর পরীক্ষিত ত্রয়ীর মতো বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি।

তাহলে কি ২০২৬-এর মিডফিল্ড দুর্বল? এক কথায় বললে না, দুর্বল নয়। তবে আলাদা। ২০২২-এর মিডফিল্ড ছিল আবেগ, এনার্জি আর ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিনের অসাধারণ মিশ্রণ। ২০২৬-এর দল হয়তো আরও অভিজ্ঞ ও কৌশলগতভাবে পরিণত, কিন্তু সেই অবিশ্বাস্য সমন্বয় এখনো পুরোপুরি দেখা যায়নি।

২০২৬-এর আর্জেন্টিনা প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু ২০২২-এর মতো হৃদয় দিয়ে খেলা, একে অপরের জন্য লড়াই করা সেই আবেগময় সংযোগই ছিল আসল পার্থক্য। 

বিশ্বকাপ জেতা শুধু তারকাদের ওপর নির্ভর করে না। দরকার সঠিক সময়, সঠিক ছন্দ আর দলগত বোঝাপড়া। ২০২২-এ আর্জেন্টিনা ঠিক সেটাই পেয়েছিল।

২০২৬-এ এনজো, ম্যাক অ্যালিস্টার আর ডি পল এখনও বিশ্বমানের মিডফিল্ড গড়তে সক্ষম। কিন্তু কাতারের সেই পারফেক্ট ব্যালান্স আবার তৈরি হবে কি না সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর