সিলেটের সবুজ গালিচায় বল ও ব্যাটের ধ্রুপদী লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার যোগ হলো মাঠের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা 'মাইন্ড গেম'। ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নামা পাকিস্তানের ব্যাটারদের সময়ক্ষেপণের কৌশল বনাম ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরতে মরিয়া বাংলাদেশের বোলার- চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে দুই দলের এই লড়াই রূপ নিল চরম নাটকীয়তায়। স্টাম্প মাইকে ভেসে আসা লিটন-শান্তর স্লেজিং আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের পাল্টা জবাব সিলেটকেও করে তুলল উত্তপ্ত।
চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল পাকিস্তান। ক্রিজে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা। ম্যাচ যত শেষের দিকে যাচ্ছিল, রিজওয়ান ততবারই পিঠের ব্যথা বা ক্র্যাম্পের অযুহাত দেখিয়ে খেলা বন্ধ রাখছিলেন। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা যখন দ্রুত ওভার শেষ করে চাপ তৈরি করতে চাচ্ছিলেন, রিজওয়ানের এই বারবার বিরতি দেওয়া তাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটায়।
বিজ্ঞাপন
৭২তম ওভারে খেলা আবার বন্ধ হলে উইকেটকিপার লিটন দাস আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। বিরক্তি নিয়েই তিনি রিজওয়ানকে বলে ফেলেন, ‘বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছ কেন?’ রিজওয়ানও তাঁকে পাল্টা জবাব দেন, ‘এটা কী তোমার কাজ!’ এ নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় যা পরে আম্পায়ার এসে থামান।
এরপরই রিজওয়ানকে স্লেজিং শুরু করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। পাকিস্তানি এই ব্যাটারকে বোঝানোর জন্য স্টাম্পের পেছন থেকে ভাঙা ভাঙা উর্দুতে খোঁচা দিয়ে বলেন, "অ্যাক্টিং শুরু হয়ে গেছে, ভাই।" অধিনায়ক শান্তও সুর মিলিয়ে বলেন, "খুব সুন্দর অ্যাক্টিং চলছে, ভাই। অতিরিক্ত অভিনয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা!" বাদ যাননি দলের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমও, তিনি বলে ওঠেন, "ড্রামা শুরু হয়ে গেছে।" আম্পায়াররা এসে হস্তক্ষেপ না করা পর্যন্ত দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে।
মাঠের এই বাগযুদ্ধ নিয়ে দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি হেসে ফেলেন। সাবেক এই অজি গতি তারকা নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, "ওরা নিজেদের মধ্যে ঠিক কী বলছিল তা ডাগআউট থেকে আমি শুনতে পাইনি। তবে মাঠে এমন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমার দারুণ লাগে। আমি একজন অস্ট্রেলিয়ান, তাই স্লেজিং বা মাঠের সদ্ভাব-অসদ্ভাবের লড়াই আমার ভালো লাগে! যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ সীমারেখা পার না করছে, টেস্ট ক্রিকেটে এমন আগ্রাসন আর আবেগ থাকাটা খুবই দরকার। দর্শক ও আমাদের সবার জন্যই এটি উপভোগ্য।"
মাঠের এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মাঝে ক্রিকেটটাও হয়েছে দুর্দান্ত। রিজওয়ান ও সালমানের ১৩৪ রানের জুটিটা যখন বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই স্পিন জাদুতে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাইজুল ইসলাম। প্রথমে থিতু হওয়া সালমানকে এবং পরের ওভারেই হাসান আলীকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তিনি।
বিজ্ঞাপন
চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৬ রান। পঞ্চম তথা শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন আরও ১২১ রান, আর বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে আরও একটি ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ও সিরিজ নিশ্চিত করতে তুলতে হবে মাত্র ৩টি উইকেট।




