উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের উত্তেজনা যত বাড়ছে, ইরানের ফুটবল শিবিরে ততই জটিল হয়ে উঠছে রাজনীতি, কূটনীতি আর খেলার মাঠের লড়াই। চোটের অজুহাতে আক্রমণভাগের সবচেয়ে পরিচিত তারকা সারদার আজমুনকে প্রাথমিক দলে রাখেননি কোচ আমির গালেনোই। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইরানজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
ইরান ফুটবল দলের ৩০ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সব আলো কেড়ে নিয়েছে আজমুনের অনুপস্থিতি। ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলিতে খেলেন। কোচ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ না জানালেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, চোটের কারণেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু বিষয়টি শুধু চোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গত মার্চ মাসেও জাতীয় দলে ডাক পাননি আজমুন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, সরকারবিরোধী হিসেবে দেখা একটি ঘটনার পর থেকেই তাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পাল্টা হামলার সময় তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
আজমুন না থাকলেও দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ মেহদি তারেমি ও আলিরেজা জাহানবাখশ। অলিম্পিয়াকোসের ফরোয়ার্ড তারেমিকে আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক ব্রাইটন উইঙ্গার জাহানবাখশও কোচের পরিকল্পনায় আছেন।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কূটনৈতিক। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজকে এপ্রিলে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যেতে দেওয়া হয়নি। আইআরজিসির (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছিল, কিন্তু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন; সূচি যেমন আছে, তেমনই থাকবে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের গ্রুপ ম্যাচ ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে (গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ)। ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে।
ইরানের প্রাথমিক দল
গোলরক্ষক: আলিরেজা বেইরানভান্দ, সেয়েদ হোসেইন হোসেইনি, মোহাম্মদ খলিফেহ, পায়াম নিয়াজমান্দ।
ডিফেন্ডার: দানিয়াল এইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হারদানি, হোসেইন কানানি, শোজা খলিলজাদেহ, মিলাদ মোহাম্মাদি, আলী নেমাতি, ওমিদ নূরআফকান, রামিন রেজাইয়ান।
মিডফিল্ডার: রুজবেহ চেশমি, সাঈদ এজাতোলাহি, মেহদি গায়েদি, সামান ঘোদ্দোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবি, আমির মোহাম্মদ রাজ্জাঘিনিয়া, মেহদি তোরাবি, আরিয়া ইউসেফি।
ফরোয়ার্ড: আলী আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, হাদি হাবিবিনেজাদ, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ, আমিরহোসেইন মাহমুদি, কাসরা তাহেরি, মেহদি তারেমি।




