কাতালুনিয়ার আকাশ থেকে ঝরে যাচ্ছে আরও একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। চার বছরের সফল অধ্যায় শেষে এই গ্রীষ্মেই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনাকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন পোলিশ গোলমেশিন রবার্ট লেভানডভস্কি। চলতি মৌসুমের লা লিগা শিরোপা জয়ের রেশ কাটার আগেই ৩৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের বিদায়ের খবর বার্সা শিবিরে এক আবেঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
২০২২ সালে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে যখন লেভানডভস্কি ন্যু ক্যাম্পে পা রাখেন, বার্সেলোনা তখন মাঠ ও মাঠের বাইরে চরম অর্থনৈতিক ও পারফরম্যান্স সংকটে জর্জরিত। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলে আবারও স্পেনের শীর্ষাসনে বসানোর পেছনে প্রধান কারিগর ছিলেন তিনিই।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বিদায়ের কথা জানিয়ে লেভানডভস্কি লেখেন, "চ্যালেঞ্জিং চারটি বছর পার করার পর এবার বিদায়ের পালা। তবে আমি তৃপ্ত যে আমার মিশন আমি শতভাগ সফল করতে পেরেছি। চার মরশুমে তিনটি লিগ শিরোপা জেতা কোনো সাধারণ কথা নয়। কাতালুনিয়ার মানুষের এই ভালোবাসা আমি আজীবন মনে রাখব।" বার্সার জার্সিতে ১৯১ ম্যাচে ১১৯ গোল করা এই তারকা ন্যু ক্যাম্পে এসেছিলেন তারকা হিসেবে, কিন্তু বিদায় নিচ্ছেন ক্লাবটির কিংবদন্তি হয়ে।
আগামী রবিবার রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে নামবেন লেভানডভস্কি। ম্যাচের আগে বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক শিষ্যকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, "রবার্টের সাথে কাজ করা যেকোনো কোচের জন্যই সৌভাগ্যের। আমার ক্যারিয়ারের জেতা ৯টি বড় ট্রফির সবকটিই এসেছে ওর হাত ধরে। ও কেবল একজন বিশ্বমানের ফুটবলারই নয়, তরুণদের জন্য এক অনন্য রোল মডেল। এই বয়সেও যেভাবে ও নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছে, তা অবিশ্বাস্য।" চলতি মৌসুমে ফ্লিকের অধীনে ৪৪ ম্যাচে ১৮টি গোল করে দলের লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
নব্বইয়ের দশকের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার স্পেনে নিজের প্রথম মৌসুমেই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি ট্রফি জিতেছিলেন। স্পেনের পাট চুকিয়ে আগামী দিনে তিনি কোথায় যাচ্ছেন, তা এখনও খোলসা করেননি এই পোলিশ তারকা। তবে ফুটবল পাড়ার গুঞ্জন, ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে মোটা অঙ্কের চুক্তিতে এশিয়া বা আমেরিকার কোনো ক্লাবে যোগ দিতে পারেন তিনি। রবিবার রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং বার্সার দর্শকদের জন্য তাদের প্রিয় 'লেভা'-কে রাজকীয় বিদায় জানানোর এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।




