সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটি রূপ নিল এক রুদ্ধশ্বাস নাটকে। লাঞ্চের পরপরই যখন খুররম-আব্বাসদের তোপে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ঘরের মাঠে লজ্জাজনক অলআউটের শঙ্কায় কাঁপছিল বাংলাদেশ, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন লিটন কুমার দাস। টেইলএন্ডার ব্যাটারদের নিয়ে এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প লিখে দলকে এনে দিলেন ২৭৮ রানের লড়াকু এক পুঁজি।
লাঞ্চের পর ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ১৫ রান তুলতেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে ৩ উইকেটে ১০১ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল, বিরতি থেকে ফিরেই সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেন পাকিস্তানি পেসাররা। থিতু হয়ে যাওয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান করে মোহাম্মদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন।
বিজ্ঞাপন
শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢুকে আসা এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। আম্পায়ার্স কলের মারপ্যাঁচে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি মুশফিকের (২৩)। দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে থিতু হতে পারেননি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও। খুররমের করা এক বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে হাসান আলীর হাতে ক্যাচ দেন তিনি। শান্ত আর মুশফিকের ৪৭ রানের জুটিটা যখন ইনিংস মেরামতের কাজ করছিল, ঠিক তখনই মাত্র ১৫ রানের ভেতর ৩ উইকেট হারিয়ে এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়ে টাইগাররা।
এরপর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, প্রথম দিন শেষ হওয়ার আগেই অল আউট হবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন লিটন। এ দুজন মিলে গড়েন ৬০ রানের জুটি। এ জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এরপর ৪০ বলে ১৬ রান করে তাইজুল ফিরলে ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারও আজ লিটনকে ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন।
লিটন-তাসকিন জুটিতে স্কোরবোর্ডে ওঠে ৩৮ রান। ১৩ বলে ৭ রান করে তাসকিন আউট হলেও শরিফুলকে নিয়ে লড়াই জারি রাখেন লিটন। এই লড়াইয়ের পথেই নিজের শতক তুলে নিয়েছেন লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১৫৯ বলে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১২৬ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন লিটন। তাঁর এই অসাধারণ সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়ার আগে ২৭৮ রানের সম্মানজনক স্কোর পায় বাংলাদেশ।
এর আগে সকালে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মাহমুদুল হাসান জয়কে শূন্য রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় ধাক্কা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। তানজিদ হাসান তামিম (২৬) এবং মুমিনুল হক (২২) কিছুটা চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন পেসার খুররম শাহজাদ। এছাড়া আব্বাস ৩টি এবং হাসান আলী ২টি উইকেট শিকার করেন।




