রিয়াল মাদ্রিদে অস্থিরতা যেন কমছে না কিছুতেই। শিরোপাহীন মৌসুমে ফুটবলারদের মারামারিতে জড়িয়ে পড়া, ক্লাবে বোর্ডের আগাম নির্বাচনসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এরই মাঝে কিলিয়ান এমবাপে জানিয়েছেন, রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে তার জায়গা না পাওয়ার কারণ তিনি দলের চতুর্থ ফরোয়ার্ড।
ফ্রান্সের এই অধিনায়ক উরুর চোট কাটিয়ে ওভিয়েদোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে মাঠে ফিরেছেন। তবে ৬৯ মিনিটে যখন তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্ষুব্ধ সমর্থকরা তাকে দুয়োধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানান। রিয়াল সমর্থকরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের সর্বোচ্চ গোলদাতার সমালোচনা করছেন; তাদের মতে ক্লাবের প্রতি এমবাপের দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। গত সপ্তাহে এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার কাছে হেরে রিয়ালের লিগ শিরোপা হারানোর ম্যাচেও ফিট না থাকায় খেলতে পারেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
ওভিয়েদোর বিপক্ষে আরবেলোয়া আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো এবং গঞ্জালো গার্সিয়াকে নিয়ে খেলা শুরু করেন। প্রায় তিন সপ্তাহ পর মাঠে নামা এমবাপে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি এখন শতভাগ ঠিক আছি। আমি খেলিনি কারণ কোচ আমাকে বলেছেন যে তার কাছে আমি দলের চতুর্থ ফরোয়ার্ড- মাস্তানতুয়ানো, ভিনিসিয়াস এবং গঞ্জালোর পেছনে আমার অবস্থান।"
মাঠে নেমে এমবাপে জুড বেলিংহামের গোলে একটি অ্যাসিস্ট করেন। তিনি আরও যোগ করেন, "শেষ পর্যন্ত আমি বেঞ্চে বসে থাকার বিষয়টি মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু সময় পেয়েছি ততটুকুই খেলেছি।"
চোট থেকে সেরে ওঠার সময় এমবাপের সার্ডিনিয়ায় ছুটি কাটাতে যাওয়ার বিষয়টি সমর্থকরা সহজভাবে নেননি। এ প্রসঙ্গে এমবাপে বলেন, "মাদ্রিদে না থাকার ব্যাপারে ক্লাবের অনুমতি আমার কাছে ছিল। মানুষ কী বলছে আমি বুঝতে পারছি না, তবে আমাকে এটি মেনে নিতে হবে।" দুয়োধ্বনি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা "সহজ" এবং তাকে সামনে তাকাতে হবে।
তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ আরবেলোয়া জানান, তিনি এমবাপেকে গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার মতো কিছু বলেননি। আরবেলোয়া বলেন, "হয়তো সে আমাকে ভুল বুঝেছে। আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার যে, যে খেলোয়াড় চার দিন আগেও বেঞ্চে বসার মতো ফিট ছিল না, তাকে আজ শুরু থেকে খেলানো উচিত নয়; বিশেষ করে যখন এটি কোনো ফাইনাল বা জীবন-মরণ ম্যাচ নয়।" কোচ আরও নিশ্চিত করেন যে, আগামী রোববারের ম্যাচে এমবাপেই হবেন দলের প্রথম পছন্দের ফরোয়ার্ড।
বিজ্ঞাপন
চলতি মৌসুমে ৪২ ম্যাচে ৪১ গোল করা এমবাপ্পের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক বলে মনে করেন আরবেলোয়া। তিনি বলেন, "আমি বুঝতে পারছি এমবাপে না খেলতে পেরে খুশি নয়, কিন্তু আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি।"




