রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ঢাকা

এক দল ২০ ম্যাচ খেলবে আর অন্য দল ১০টি, তা হতে পারে না— ম্যাথিউস

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

এক দল ২০ ম্যাচ খেলবে আর অন্য দল ১০টি, তা হতে পারে না— ম্যাথিউস

শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস বরাবরই লড়াই করতে পছন্দ করেন। ৯ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ক্রিকেটের 'বিগ থ্রি' (ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) সরাসরি আক্রমণ করেছেন। ম্যাথিউস বলেন, একটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের জন্য এক সিরিজে দুইটির কম টেস্ট ম্যাচ খেলা অপমানের চেয়ে কম কিছু নয়।

২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৯৯টি টেস্ট খেলা এই ক্রিকেটার বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে "বড় দল বা ছোট দল" বলে কিছু নেই। তিনি আইসিসি এবং বিগ থ্রি-র সেই ভণ্ডামির দিকে আঙুল তুলেছেন, যেখানে তারা নিজেদের মধ্যে বেশি খেলে এই ফরম্যাট বাঁচানোর দাবি করে। ম্যাথিউসের বার্তা ছিল স্পষ্ট- টেস্ট মর্যাদা কোনো স্তরভিত্তিক সুবিধা নয় এবং শুধুমাত্র রাজস্বের ওপর ভিত্তি করে খেলার ক্যালেন্ডার তৈরি করা উচিত নয়।


বিজ্ঞাপন


ম্যাথিউসের এই হতাশার মূলে রয়েছে ‘বিগ থ্রি’ (ভারত, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া) কর্তৃক ছোট দেশগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্ব না দেওয়া। যদিও এই দেশগুলো লাল বলের খেলার অভিভাবক হওয়ার দাবি করে, কিন্তু ২০২৫-২০২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সূচি বঞ্চনার গল্পই বলে। শুধু ২০২৫ সালেই শ্রীলঙ্কাকে মাত্র চারটি টেস্ট ম্যাচ দেওয়া হয়েছে যা গত এক দশকের মধ্যে তাদের জন্য সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, বিগ থ্রি দলগুলো ক্যালেন্ডার এবং রাজস্বের বড় অংশ দখল করে থাকা পাঁচ ম্যাচের ‘মেগা-সিরিজ’ খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ম্যাথিউসের দাবি, "আপনি এক দলকে ২০টি ম্যাচ এবং অন্য দলকে ১০টি ম্যাচ খেলাতে পারেন না" যা বর্তমান ডব্লিউটিসি চক্রের রূঢ় বাস্তবতায় প্রমাণিত। যেখানে ইংল্যান্ড ২২টি এবং অস্ট্রেলিয়া ২১টি ম্যাচ খেলছে, সেখানে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো পাচ্ছে মাত্র ১২টি করে ম্যাচ, যার সিরিজগুলো গড়ে মাত্র ২ টেস্টের।

Screenshot_2026-05-10_162545

শ্রীলঙ্কার জন্য মাত্র ২ টেস্টের সিরিজ খেলা মানে এক প্রকার বাণিজ্যিক মৃত্যু। সম্প্রচারকারীরা ছোট সিরিজের জন্য অনেক কম টাকা দেয় এবং ডব্লিউটিসি-র ‘পয়েন্ট-প্রতি-ম্যাচ’ পদ্ধতিতে ভুলের কোনো জায়গা থাকে না। শ্রীলঙ্কা যদি ২ ম্যাচের সিরিজে একটি সেশনও খারাপ খেলে, তবে তাদের টুর্নামেন্ট কার্যত শেষ হয়ে যায়; যেখানে একটি বিগ থ্রি দল ৫ ম্যাচের সিরিজে দুটি টেস্ট হেরেও ফাইনালে পৌঁছাতে পারে।


বিজ্ঞাপন


৮২১৪ রান করা ম্যাথিউস বিগ থ্রি-র সেই ভণ্ডামিকে উন্মোচন করেছেন যেখানে তারা দাবি করে যে অন্যান্য দেশে টেস্ট ক্রিকেট "অলাভজনক", অথচ তারাই এমন সূচির পক্ষে ভোট দেয় যা ছোট বোর্ডগুলোকে উচ্চ-মানের কন্টেন্ট থেকে বঞ্চিত রাখে। বিগ থ্রি বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি এবং অ্যাশেজকে অগ্রাধিকার দেয় কারণ এগুলো থেকে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন রাজস্ব আসে। তারা এই রাজস্ব ব্যবহার করে নিজেদের টি-টোয়েন্টি লিগ (আইপিএল, বিবিএল, দ্য হান্ড্রেড) পরিচালনা করে, যা আবার ছোট দেশগুলোর টেস্ট সিরিজের সময়ের সাথে মিলে যায়।

৩৮ বছর বয়সী এই লঙ্কান অলরাউন্ডার একটি অপ্রিয় সত্য সামনে এনেছেন, তা হল- বিগ থ্রি কোনো খেলা সংরক্ষণ করছে না; তারা একটি ব্যবসায়িক মডেল রক্ষা করছে। রাজস্ব উৎপাদনকে "খেলা টিকিয়ে রাখা"র সাথে গুলিয়ে ফেলে তারা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে যেখানে টেস্ট ক্রিকেট মাত্র তিনটি এলাকায় বিকশিত হচ্ছে, আর বাকি বিশ্ব সেখানে জায়গা পাচ্ছে না। 

ম্যাথিউস বলেন, ‘একই চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এক দল ২০টি ম্যাচ খেলবে আর অন্য দল ১০টি, এটা হতে পারে না! রাজস্ব তৈরি করা আর টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখা—দুটি আলাদা বিষয়, দুটিকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।’ সম্প্রতি ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সমতার নীতি থেকে সরে আসার নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সামনের চক্র থেকে মাত্র এক টেস্টের সিরিজ যুক্তের কথা ভাবছে বোর্ডটি। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মত দেশগুলোর সঙ্গে এক টেস্টের সিরিজ খেলার কথা ভাবছে ইসিবি। এরই মাঝে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নিজের ক্ষোভ ঝাড়লেন ম্যাথিউস।  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর