নির্বাচনের ধুলো বসতে না বসতেই সাবেক ক্রিকেটার ও তৃণমূল নেতা মনোজ তিওয়ারি মুখ খুললেন। যে দলের হয়ে দীর্ঘদিন মাঠে-মন্ত্রিত্বে কাটিয়েছেন, সেই দলের অন্দরের কথা এবার খোলাখুলি বলতে শুরু করলেন তিনি।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর মনোজ তিওয়ারি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, 'তার তৃণমূল অধ্যায় শেষ'। শুধু তাই নয়, দল ছাড়ার সময় তিনি এমন কিছু অভিযোগ তুলেছেন যা দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মনোজ তিওয়ারি বলেন, 'যারা মোটা টাকা দিতে পেরেছে, শুধুমাত্র তারাই টিকিট পেয়েছে। আমাকেও বিধায়ক টিকিটের জন্য পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। আমি রাজি হইনি।' তিনি আরও জানান, 'এবার অন্তত ৭০-৭২ জন প্রার্থী এভাবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা করে দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকেরই ভাগ্যে জয় জোটেনি।'
হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে ২০২১ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন মনোজ। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে খেলা, ফাইনালে ওঠা ক্রিকেটার হিসেবে যেমন সুনাম ছিল, রাজনীতিতেও শুরুতে তেমনই উৎসাহ ছিল। কিন্তু দলের টিকিট না পাওয়ায় আগে থেকেই হতাশ ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন,'পাপ বাপকেও ছাড়ে না।' এর মধ্য দিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও টিকিট বাণিজ্যের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনোজ বলেন,'এই বিপর্যয়ে আমি একদম অবাক হইনি। যখন একটা পুরো দল দুর্নীতিতে ডুবে থাকে এবং কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয় না, তখন এটাই স্বাভাবিক ফল।'
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁকে শিবপুর থেকে লড়তে বলেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন হয়তো এলাকায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে হাওড়ার দীর্ঘদিনের নিকাশি সমস্যা সমাধান করতে পারেননি। পৌরসভা তার কোনো কথা শোনেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সত্যি বলতে কোনও উন্নয়নই হয়নি। আমি কিছু করতে চাইলেও বাধা দেওয়া হত।'
আমি এমন সভাতেও গিয়েছি যেখানে টিএমসির সব মন্ত্রীদের ডাকা হয়েছিল। আর আমাকে প্রতিমন্ত্রী নামের একটা ললিপপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার আসলে কোনও মানেই ছিল না। আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে বলতাম, ’দিদি, আমি একটা নির্দিষ্ট সমস্যার দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই’, তিনি মাঝপথেই আমাদের থামিয়ে দিয়ে বলতেন, 'তোমাদের মতো লোকদের জন্য আমার সময় নেই।'




