মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ ড্র করল নিউজিল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ ড্র করল নিউজিল্যান্ড

ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জেতার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ জিতে লিড নিলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ নিশ্চিত করতে পারল না টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর আজ শেষ ম্যাচও পড়ে বৃষ্টির বাধায়। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা হয় ১৫ ওভারে।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে কিউইদের ১০৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল টাইগাররা। শুরুতেই ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন শরিফুল ইসলাম-শেখ মাহেদিরা। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। বেভন জ্যাকবসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩.২ ওভার হাতে রেখেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ব্ল্যাকক্যাপসরা। 

১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয়েছে বাজে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন শরিফুল। তাঁর বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন কিউই ওপেনার কেটেন ক্লার্ক। একই ওভারে ডেন ক্লিভারকেও সাজঘরের পথ দেখান টাইগার পেসার। 

নিজের প্রথম ওভারে ২ উইকেট নেওয়া শরিফুল দ্বিতীয় ওভারেই আবার আঘাত হানেন। এবার আরেক ওপেনার টিম রবিনসনকে বোল্ড করেন তিনি। টাইগার পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দলীয় ২৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। 

এরপর উইকেট নেওয়ার মিছিলে যোগ দেন মেহেদিও। ৫ম ওভারে তিনি ফেরান নিক কেলিকে। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে কিউইরা, বাংলাদেশের সামনে জাগে জয়ের আশা। 

Screenshot_2026-05-02_182737

তবে এরপর কিউইদের পথ দেখিয়েছেন জ্যাকবস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ফক্সক্রফট। এ দুজন মিলে জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। জয়ের পথে আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেছেন জ্যাকবস। ২৯ বলেই নিজের ফিফটি তুলে নেওয়া কিউই এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩১ বলে ৬২ রান করে, ৫টি চারের সঙ্গে তিনি হাঁকিয়েছেন ৩টি ছয়। অপরপ্রান্তে ফক্সক্রফট ১৫ বলে ১৫ করে অপরাজিত ছিলেন, দুজনে মিলে দলকে জেতানোর পথে গড়েন ৭১ রানের জুটি। 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদেরও। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো করতে পারেননি সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম। আজ সাইফ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। দুটি চার মেরে দারুণ কিছুর আভাসও দিয়েছিলেন। তবে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। 

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই আউট হন সাইফ। জেইডন লেনক্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি ১০ বলে করেন ১৬ রান। এদিকে সাইফ ফেরার পরের ওভারেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

এবার ডিন ফক্সক্রফটের বলে বিদায় নেন আরেক ওপেনার তামিম। তিনি ১০ বলে করেন ৬ রান। এরপরের বলেই সাজঘরের পথ ধরেন পারভেজ ইমন। ১ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় তাকে। এরপর ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। লিটন ছিলেন মারমুখী মেজাজে। ১৩ বলে ৩ চার আর ১ ছয়ে ২৫ রান করেছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের দলীয় রান যখন ৫০ তখন বৃষ্টি শুরু হলে বন্ধ হয় খেলা।

বৃষ্টির পর খেলা আবার শুরু হলে শুরুতেই লিটন দাসের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৬৩ রানে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। আউট হওয়ার আগে তিনি ১৭ বলে করেন ২৬ রান। এদিকে লিটন ফেরার পর হৃদয় খেলেছেন হাত খুলেই। তবে তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হয়েছে শামীম হোসেন। টাইগার এই মিডল অর্ডার ব্যাটার দলীয় ৮৬ রানেই ধরেন সাজঘরের পথ, ফেরার আগে করেন ৮ বলে ৩ রান। 

শামীম ফেরার পর স্কোরবোর্ডে আর ২ রান যোগ হতেই আউট হন হৃদয়ও। জশ ক্লার্কসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি ২৪ বলে করেন ৩৩ রান। এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৪.২ ওভারে ১০২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর