বৃহস্পতিবার রাতে ফিফার ৭৬তম কংগ্রেসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি করমর্দনরত ছবি তোলার জন্য চেষ্টা করেছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে তাঁর এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জিবরিল রাজউব এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বাসিম শেখ সুলেমান বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য শেষে ইনফান্তিনো তাঁদের দুজনকে একসাথে মঞ্চে রেখে একটি ছবি তোলার ও হ্যান্ডশেক করার অনুরোধ জানান। তবে রাজউব এতে তীব্র অসম্মতি জানান এবং চিৎকার করে প্রতিবাদ করতে করতে মঞ্চ ত্যাগ করেন।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনার পর ইনফান্তিনো দুই পক্ষকে উদ্দেশ্য করে শিশুদের ভবিষ্যতের স্বার্থে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তবে জিবরিল রাজউব পরবর্তীকালে ইসরায়েলের ফিফা সদস্যপদ থাকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার এবং ফিফার নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি এফএ-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট সুসান শালাবি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, "ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যার চিহ্ন মুছতে ইসরায়েল যাঁকে পাঠিয়েছে, তাঁর সাথে আমি হ্যান্ডশেক করতে পারি না।"
কংগ্রেসে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, চলমান সংঘাত সত্ত্বেও ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। ইনফান্তিনো তাঁর বক্তব্যে ইরানের অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প (যিনি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ এবং ফিফা পিস প্রাইজ জয়ী) প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "যেহেতু জিয়ান্নি বলেছে, তাই আমি এতে একমত।"
বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ভক্তদের অভিযোগ থাকলেও ইনফান্তিনো বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত বাজারে ছাড়া টিকিটের ৯০ শতাংশই বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন যে কিছু টিকিটের দাম অনেক বেশি, তবে সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেও টিকিট রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, এই টিকিট বিক্রির টাকা পুনরায় ফুটবল উন্নয়নের স্বার্থেই বিশ্বজুড়ে ব্যয় করা হবে।
উল্লেখ্য, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগামী বছর তৃতীয় মেয়াদে ফিফা প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও এই কংগ্রেসে দিয়েছেন।




