বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অবশেষে পদত্যাগ করলেন লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

অবশেষে পদত্যাগ করলেন লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট

বুধবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা এবং বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একদিন আগে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের অনুরোধেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের ওপর বাড়তে থাকা জনরোষ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি "সৌহার্দ্যপূর্ণ বিদায়" নিশ্চিত করতে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকের সাথে শাম্মি সিলভার বৈঠক হয়।


বিজ্ঞাপন


সরকার এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য ইরান বিক্রেমারত্নেকে ভাবা হচ্ছে। সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত ত্বরান্বিত করতে সাবেক দুই ক্রিকেটার সিদাথ ওয়েটিমুনি এবং রোশন মহানামাকেও এই নতুন কাঠামোতে যুক্ত করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এসএলসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা আজ থেকে কার্যকরভাবে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।" বিবৃতিতে আরও জানানো হয় যে, কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও পদত্যাগ করেছেন এবং এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে ও যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমার গামাগেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে থিলাঙ্গা সুমাথিপালার উত্তরসূরি হিসেবে শাম্মি সিলভা প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হন। প্রাথমিকভাবে সুমাথিপালার অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও, সিলভা নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং টানা চার মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই চার মেয়াদের তিনটিতেই তিনি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয়ী হয়েছিলেন।

তার সাত বছরের শাসনামলে পুরুষ ও নারী দল এশিয়া কাপের শিরোপা জিতলেও, বড় কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য আসেনি। বরং তাদের র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নবম স্থান অর্জন এবং ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল লক্ষণীয়। এমনকি সম্প্রতি গ্যারি কার্স্টেনকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিলেও বোর্ডের নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি থামেনি।


বিজ্ঞাপন


শাম্মি সিলভা প্রায়ই বোর্ডের সমৃদ্ধ আর্থিক অবস্থার কথা বলতেন, কিন্তু তার শাসনামল সবসময়ই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত ছিল। ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিষয়টি চরম আকার ধারণ করে, যখন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী রোশন রানাসিংহে বোর্ডের অনিয়মের অডিট প্রমাণের ভিত্তিতে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও সিলভাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তবে আপিল আদালতের রায়ে তিনি দ্রুতই স্বপদে ফিরে আসেন। এই ঘটনা মন্ত্রী এবং বোর্ডের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত রানাসিংহের পদচ্যুতির পথ প্রশস্ত করে।

বর্তমানে এই পদত্যাগ এবং ইরান বিক্রেমারত্নের নিয়োগের প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসএলসি-র সংবিধান অনুযায়ী, কোনো পদ খালি হলে কার্যনির্বাহী কমিটিকে একজন ভাইস-চেয়ারম্যানকে শীর্ষে নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু যেহেতু ভাইস-প্রেসিডেন্ট জয়ন্ত ধর্মাদাসাও পদত্যাগ করেছেন, তাই এই প্রক্রিয়াটি এখন জটিল। বোর্ড এই নিয়মের বাইরে যেতে সরকারের ১৯৭৩ সালের স্পোর্টস ল’ (আইন নং ২৫) এর ৩৩ নম্বর ধারার ওপর নির্ভর করছে।

সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয় হলো, ক্রিকেটে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইসিসির "জিরো টলারেন্স" বা কঠোর অবস্থান। আইসিসি সবসময়ই যেকোনো সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে তাদের ২.৪ (ডি) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রী রানাসিংহে যখন বোর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন, তখন আইসিসি শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল। এর ফলে শ্রীলঙ্কা আইসিসির তহবিল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তন করতে হয়েছিল। আইসিসির নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট- তারা কেবল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতৃত্বকেই স্বীকৃতি দেয়।

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সরকার এবার কৌশলী পথে হাঁটছে। তারা বোর্ডকে সরাসরি "বরখাস্ত" না করে একটি "স্বেচ্ছায় পদত্যাগ"-এর চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যাতে এটি প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হয়। তবে যদি আইসিসি মনে করে এই পদত্যাগ সরকারের চাপে হয়েছে, তবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ওপর আবারও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসতে পারে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর