চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজি বনাম বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াই ফুটবল বিশ্ব তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেও, বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির জন্য এটি ছিল চরম অস্বস্তির। গ্যালারিতে বসে অসহায়ভাবে দলের হার দেখা ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার ছিল না।
তিনটি হলুদ কার্ড পাওয়ায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোম্পানিকে থাকতে হয়েছিল গ্যালারিতে। ডাগআউটে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অ্যারন ড্যাঙ্কস। মাঠ থেকে প্রায় ৮০ মিটার দূরে বসে হেডফোন কানে ম্যাচ দেখাটা যে মোটেও সুখকর ছিল না, তা ম্যাচ শেষে স্পষ্ট জানিয়েছেন এই বেলজিয়ান কোচ।
বিজ্ঞাপন
কোম্পানি বলেন, "এটা মোটেও মজার কিছু নয়। যদি আমার জীবনে এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে, তবেই আমি তৃপ্ত হবো। এত দূর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে যেমন আগুন ছিল, আমাদের তার চেয়েও বেশি কিছু দরকার। আমি এমন ম্যাচে গ্যালারিতে বসে চুপ করে থাকার জন্য যাব না।"
পার্ক দে প্রিন্সেসে দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ৯ গোলের এক মহাকাব্য মঞ্চস্থ হয়। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল ৩-২ ব্যবধানে যেখানে পিএসজি এগিয়ে ছিল। বিরতির পর এক পর্যায়ে ৫-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও বায়ার্ন দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে। লুইস ডিয়াজের শেষ মুহূর্তের দর্শনীয় গোলটি বায়ার্নকে দ্বিতীয় লেগের আগে বড় লাইফলাইন এনে দিয়েছে।
বায়ার্নের সেট-পিস স্পেশালিস্ট অ্যারন ড্যাঙ্কস প্রথমবার বায়ার্নের প্রধান হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার স্বাদ পান। উপামেকানোর সেট-পিস গোলটি তাঁর কৌশলের সুফল হলেও, জোয়াও নেভেসের হেডার গোলটি বায়ার্নের ডিফেন্সের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে।
অন্যদিকে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে এই ম্যাচটিকে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের "সেরা ম্যাচ" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল, ড্র–ও প্রাপ্য ছিল এবং হারও। অসাধারণ এক ম্যাচ। সন্দেহাতীতভাবে, কোচ হিসেবে আমার ক্যারিয়ারে এটাই সেরা ম্যাচ।"
বিজ্ঞাপন
আগামী বুধবার বায়ার্ন মিউনিখের নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় লেগ। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কোম্পানি ফিরবেন তাঁর টেকনিক্যাল এরিয়ায়। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে যেমন উন্মাদনা ছিল, ঘরের মাঠে তেমন 'অগ্নিগর্ভ' পরিবেশ চাইছেন তিনি।




