মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সাগরিকায় নিউজিল্যান্ডকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

নিউজিল্যান্ডকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন বড় রান তাড়া করে জেতা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় ১৮০-এর ওপরে লক্ষ্য এখনও কঠিন চ্যালেঞ্জ। চট্টগ্রামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে নিউজিল্যান্ড যে ১৮২ রান তুলেছে, সেটি তাই স্বাগতিকদের জন্য বড় পরীক্ষাই একপ্রকার। টাইগাররা অবশ্য সেই জবাবটা ব্যাটে ভালো করেই দিলো। শুরুতে তানজিদ তামিম ওয়ানডে ফরম্যাটে খেললেও মিডেল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ ইমন ও শামীমের ব্যাটে ম্যাচের গতি উল্টো দেন ৩৬০ ডিগ্রিতে। তাতে ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় টাইগাররা।     

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ১১ রানে রান-আউট হয়ে ফিরে যান ওপেনার টিম রবিনসন। তবে এরপরই ম্যাচে গতি এনে দেন কাটেনে ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। ক্লার্ক ৩৭ বলে ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন, আর ক্লেভার মাত্র ২৮ বলেই তুলে নেন অর্ধশতক। এই দুই ব্যাটারই বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের শিকার হন।

প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান তুলে নেওয়া কিউইরা মাঝের ওভারগুলোতে কিছুটা ধীর হয়ে যায়। বাংলাদেশের স্পিনাররা দারুণভাবে রান আটকে দেন, ফলে পরের পাঁচ ওভারে আসে মাত্র ৩০ রান।

এরপর ১৬.৩ ওভারে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫১ রান, কিন্তু আলোর স্বল্পতায় খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। খেলা আবার শুরু হলে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন নিক কেলি, তিনি ২৭ বলে ৩৯ রান করেন। শেষদিকে জেমস ক্লার্কসন ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান যোগ করে দলকে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে পেসাররা বেশ খরুচে ছিলেন। শরিফুল ইসলাম ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন, তানজিম সাকিব ৪০ রান খরচ করে একটি উইকেট পান, আর রিপন মণ্ডল উইকেটশূন্য থেকে দেন ৩৯ রান। স্পিন বিভাগে শেখ মেহেদী ১টি এবং রিশাদ হোসেন ২টি উইকেট তুলে নেন, যা কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।

১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ দেখায়। ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে দলীয় স্কোর দ্রুত ৪৪ রানে পৌঁছে যায়। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে ন্যাথান স্মিথের বলে ডিপ মিড উইকেটে বেভন জ্যাকবসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাইফ ফিরে যান। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১৭ রান।

সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে লিটন দাস তানজিদকে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তবে নবম ওভারের পঞ্চম বলে ইশ সোধির মিডল স্টাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া বলটি পুল করতে গিয়ে লিটন মিস করেন। বল সরাসরি মিডল স্টাম্পে আঘাত করে। ১৫ বলে ২১ রান (২ চার ও ১ ছক্কা) করে তিনি সাজঘরে ফিরলেন।

লিটনের আউটের পর উইকেটে আসেন তাওহীদ হৃদয়, তাকে নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা চালান তানজিদ। তবে উইকেটে থিতু হয়ে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। দলীয় ৭৭ রানে ২৫ বলে ২০ করে  প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। 

চাপ সামলে হৃদয়-ইমনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এই দুই জনের ফিফটি রানের জুটিতে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে এগোচ্ছে। তবে দলীয় ১৩৪ রানে ইমন ২৮ করে বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি।

ইমন আউট হলেও হৃদয় টিকে ছিলেন শুরু থেকেই। তার সঙ্গে যোগ দেন শামীম। ১৬তম ওভারেই খেলার মোড় ঘুরে যায়, আসে ১৮ রান। শামীমের দারুণ এক নো-লুক শটে উড়ে যায় বিশাল ছক্কা, গ্যালারিতে উল্লাসের ঢেউ। তখন ২৪ বলে দরকার ছিল ৩০ রান। অনেকের কাছে সহজ মনে হলেও চাপের মুহূর্তে এমন সমীকরণ মেলানো সহজ নয়।

কিন্তু শামীম-হৃদয় জুটি কোনো বেগই পাননি। ১৭তম ওভারে বৃষ্টির মতো রান ঝরে ২৫ রান। শামীম একের পর এক দর্শনীয় ছক্কা হাঁকিয়ে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ ভেঙে দেন।

শেষ ৩ ওভারে তখন মাত্র ৫ রান বাকি। হৃদয় নিজের ফিফটি তুলে নেন সুন্দরভাবে। আর ২ ওভার বাকি থাকতেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৫১ রান করে। আর শামীম খেলেন ঝোড়ো ১৩ বলে ৩১ রানের ইনিংস। 

প্রথম টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (শামীম ৩১*, হৃদয় ৫১*; সাইফ ১৭, লিটন ২১, তানজিদ ২০, পারভেজ ২৮)

নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ১৮২/৬ (স্মিথ ২*, ক্লার্কসন ২৭*; রবিনসন ০, ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, জ্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, কেলি ৩৯)

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর