ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৩ জুন (বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা) মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু করবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সেলেসাও শিবিরে নেমে এসেছে একের পর এক দুঃসংবাদ। ডিফেন্স ও আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।
চেলসির ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ান (এস্তেভাও) ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। মাঠ ছাড়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। পরে স্ক্যানে ধরা পড়েছে গুরুতর (গ্রেড ফোর) হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি। ফলে প্রিমিয়ার লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আর দেখা যাবে না।
বিজ্ঞাপন
চেলসির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফার্লেন জানিয়েছেন, এস্তেভাও এই মৌসুমে আর খেলতে পারবেন না। তবে বিশ্বকাপের আগে তিনি ফিট হয়ে উঠবেন কি না, সে ব্যাপারে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। চোট সারতে সাধারণত ৮ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে, যা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের জন্য যথেষ্ট চাপ তৈরি করেছে।
গত বছর পালমেইরাস থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়া এস্তেভাও এ মৌসুমে ৮টি গোল করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের হয়ে ছয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫ গোল করে কোচ কার্লো আনচেলত্তির নজর কেড়েছিলেন। তার অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ব্রাজিলের আরেক ফরোয়ার্ড রদ্রিগো গোয়েসের (রিয়াল মাদ্রিদ) অবস্থা আরও খারাপ। মার্চ মাসে ডান হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি পুরো মৌসুমের পাশাপাশি বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেছেন। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে ৭-৯ মাস সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
২৫ বছর বয়সী রদ্রিগো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি। এই ইনজুরিটিকেই আমি সবসময় সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম।” ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলা এই তারকার অনুপস্থিতি দলের আক্রমণে বড় ফাঁক তৈরি করবে।
বিজ্ঞাপন
রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন। এটি তার আগের চোটের দাগ পুনরায় খুলে যাওয়ার ফল। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, তাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে এবং সুস্থ হতে চার মাসের মতো সময় লাগবে। ফলে বিশ্বকাপের জন্য যথাসময়ে ফিট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
২৮ বছর বয়সী এই কেন্দ্রীয় ডিফেন্ডার ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তার অনুপস্থিতি দলের পেছনের লাইনকে আরও দুর্বল করে তুলবে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখন দল গড়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ইনজুরি-জর্জরিত দল নিয়ে বিশ্বকাপে ভালো করা সহজ হবে না। তবে ফুটবলের অপ্রত্যাশিততা সবসময় আছে, শেষ মুহূর্তে কোনো অলৌকিক সুস্থতা বা বিকল্প খেলোয়াড়দের দারুণ পারফরম্যান্স দলকে আবারও শিরোপার দৌড়ে ফিরিয়ে আনতে পারে।




