রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ভারত বিশ্বকাপের ট্রমা থেকে 'মুভ অন' করে ২০২৮-এ নজর বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারত বিশ্বকাপের ট্রমা থেকে 'মুভ অন' করে ২০২৮-এ নজর বাংলাদেশের

১৪৬ দিনের নীরবতা ভেঙে আবার মাঠে নামছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত একটা বছর কাটিয়ে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য যখন সবাই প্রস্তুত, তখনই সরকারি সিদ্ধান্তে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যাওয়া হয়নি লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিমদের। কিন্তু অতীতের সেই তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার নতুন লক্ষ্য ২০২৮ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের পথচলা শুরু। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টায় শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ শুধু ফেরার ম্যাচ নয়, বরং নতুন করে গড়ে ওঠার সুযোগ। ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে থাকা লিটন দাস (সাম্প্রতিক ম্যাচে ৭৬ রান), তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের ব্যাটিংয়ের ওপর ভরসা রাখছে দল। 


বিজ্ঞাপন


২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩০ ম্যাচের মধ্যে ১৫টি জিতেছে তারা। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে। ব্যাটাররা মোট ২৩টি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। 

সবচেয়ে বড় উন্নতি দেখা গেছে ছক্কা মারার ক্ষেত্রে। পুরো বছরে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মেরেছেন ২০৬টি ছক্কা, চতুর্থ দেশ হিসেবে এই কীর্তি গড়েছে (আগে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান)। তানজিদ হাসান তামিম একাই ৪১টি, পারভেজ হোসেন ইমন ৩৪টি, সাইফ হাসান ২৯টি এবং লিটন দাস ২৩টি ছক্কা মেরেছেন। 

বল হাতেও দাপট দেখিয়েছেন রিশাদ হোসেন (৩৩ উইকেট), মুস্তাফিজুর রহমান (২৬), তাসকিন আহমেদ (২৪), তানজিম হাসান সাকিব (২৩) ও শেখ মেহেদি হাসান (২২)। এমন প্রস্তুতি নিয়েও নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ ভেন্যু সরানোর দাবি মেনে নেয়নি, ফলে দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।

বিশ্বকাপ না খেলার হতাশা থেকে দল বেরিয়ে আসতে পেরেছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে লিটন বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই মুভ অন করেছে। কারণ বিশ্বকাপের ওই সময়টাতে আমরা একটা টুর্নামেন্টও খেলেছি যেখানে খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে ভালো ক্রিকেট খেলার। সবচেয়ে বড় জিনিস হলো, যেহেতু আন্তর্জাতিক আসর, প্রত্যেকটা আসরই খেলোয়াড়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা ওভাবেই চিন্তা করবে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয়, যে মনোভাবটা দরকার, সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।’


বিজ্ঞাপন


আসন্ন ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে, যেখানে বেশিরভাগ উইকেট ব্যাটিংবান্ধব হলেও পেসারদের জন্যও সহায়তা থাকবে। চট্টগ্রামের মাঠে এই ধরনের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। নিউজিল্যান্ড এসেছে একেবারে নতুন চেহারায়। টম ল্যাথামের নেতৃত্বে দলে আছেন শুধু ইশ সোধি (গত বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে)। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় নিয়মিত তারকারা অনুপস্থিত। তবে ডিন ফক্সক্রফট (ওয়ানডেতে ৭৫ রানে ৭ ছক্কা), নিক কেলি, নাথান স্মিথ ও কাটেন ক্লার্কের মতো তরুণরা ওয়ানডে সিরিজে ভালো ছন্দ দেখিয়েছেন।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণেও বড় তারকাদের অনুপস্থিতি। তাসকিন, মুস্তাফিজ ও নাহিদ রানাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। পেস বিভাগে থাকবেন তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (অলরাউন্ডার হিসেবে)। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডল। লিটন দাস অধিনায়ক, সাইফ হাসান সহ-অধিনায়ক।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ এগিয়ে। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে ৫ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল। ২০২৩ সালে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র। তবে প্রথম চার সিরিজে কিউইরা জিতেছিল। এবারের সিরিজ জিতলে ২০২৮ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ইতিবাচক শুরু হবে। 

লিটন দাস বলেন, ‘আমাদের মুল লক্ষ্যটা হল ২০২৮ বিশ্বকাপ। আমরা জানি সেটা এশিয়াতে না, সুতরাং ওইভাবে চিন্তাভাবনা করব। আর যেহেতু সর্বশেষ বিশ্বকাপের সময় আমাদের একটা ভালো ভন্ডিং ছিল এবং প্রস্তুতিটাও খুব ভালো ছিল। চেষ্টা করব ওখান থেকেই যেন এই দলটাকে ভালো করে ধরে রাখা হয়।’

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর