ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার সামিত প্যাটেল। অনুমোদনহীন লিগে খেলার কারণে সম্প্রতি সামিত প্যাটেলকে নিষিদ্ধ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ৪১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
নিষিদ্ধ হয়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামিত জানান, আগে থেকে জানলে তিনি সম্ভবত নিষিদ্ধ টি-টোয়েন্টি লিগটিতে খেলতেন না। ৪১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানান, ওই লিগে খেলার কারণে যে নিষেধাজ্ঞা আসবে তা জানা থাকলে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেন।
বিজ্ঞাপন
সাবেক ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার সমিত প্যাটেল এবং অস্ট্রেলিয়ান বোলার পিটার সিডল দুজনেই এই গ্রীষ্মের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলতে পারছেন না। কারণ তারা গোয়ায় অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্ল্ড লিজেন্ডস প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ'-এ অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে যে, কোনো খেলোয়াড় যদি এ ধরনের "অননুমোদিত" লিগে অংশগ্রহণ করে, তবে তারা ১২ মাস ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারবে না।
এর ফলে প্যাটেল ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন যে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন। বিবিসি স্পোর্টসের 'স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট' অনুষ্ঠানে প্যাটেল বলেন, "আমি যদি জানতাম, তবে সম্ভবত এটি (ওয়ার্ল্ড লিজেন্ডস লিগ) খেলতাম না। আমরা খেলতে পারব কি না তা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু এখন আর তা নিয়ে পড়ে থাকার উপায় নেই। এই ঘটনাটি আমার অবসরকে কেবল এগিয়ে নিয়ে এসেছে।"
প্যাটেল ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলেছেন এবং নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে ২২ বছরে ৬২৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। ২০২৪ সালে তিনি ডার্বিশায়ারের সাথে দুই বছরের সাদা বলের চুক্তিতে যোগ দিয়েছিলেন। গত বছরের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট শেষে যখন তিনি ক্লাবটি ছাড়েন, তখন তিনি চুক্তিমুক্ত ছিলেন। তবে তিনি জানান যে, এই নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তিনি আরও এক বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, "আমি এই গ্রীষ্মে খেলতাম। কিছু কাউন্টির সাথে আমার কথা হচ্ছিল, যদিও চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর্যায়ে আমরা পৌঁছাইনি, তবে আলোচনা চলছিল। হয়তো শেষ মুহূর্তে কোথাও একটি চুক্তি হয়ে যেত।"
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ডের হয়ে প্যাটেল ৬টি টেস্ট, ৩৬টি ওয়ানডে এবং ১৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তবে ফিটনেস সমস্যার কারণে তিনি দলে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেননি। ২০১৫ সালে শারজাহতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে তার শেষ উপস্থিতি। ঘরের মাঠে কোনো টেস্ট ম্যাচ না খেলেই তিনি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।




