বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের বদলে ইতালিকে বিশ্বকাপে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ফিফার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানের বদলে ইতালিকে বিশ্বকাপে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ফিফার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতের প্রস্তাব সত্ত্বেও আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানকে সরিয়ে ইতালিকে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ফিফার নেই বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মাঝেই এমন প্রস্তাব আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জামপোলি 'ফিন্যান্সিয়াল টাইমস'-কে বলেন, "আমি নিশ্চিত করছি যে আমি ট্রাম্প এবং ইনফান্তিনোকে পরামর্শ দিয়েছি যেন বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইতালিকে নেওয়া হয়। আমি জন্মসূত্রে ইতালিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত টুর্নামেন্টে আজুরিদের দেখা আমার জন্য একটি স্বপ্ন হবে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের সেই যোগ্যতা ও ঐতিহ্য রয়েছে।"


বিজ্ঞাপন


ফিফা জামপোলির এই প্রস্তাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও গত সপ্তাহে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছে যেখানে তিনি বলেছিলেন, "ইরান দল অবশ্যই আসছে।" ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে যে, জামপোলির এই পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের "নৈতিক দেউলিয়াত্ব" প্রকাশ করে। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানায়:

"ইতালি ফুটবলে তার মহত্ত্ব অর্জন করেছে মাঠের লড়াই দিয়ে, কোনো রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে নয়। ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার এই চেষ্টা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের 'নৈতিক দেউলিয়াত্ব' প্রকাশ করে, যারা কি না খেলার মাঠে ১১ জন ইরানি তরুণের উপস্থিতিকে পর্যন্ত ভয় পায়।"

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোপ লিও চতুর্দশ সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ক্ষুব্ধ হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক সহজ করার লক্ষ্যেই জামপোলি এই পরিকল্পনা করেছিলেন। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি গত মাসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ম্যাচে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইরান ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টটির যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।


বিজ্ঞাপন


ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল নাম প্রত্যাহার করলে বা বাদ পড়লে কী করা হবে সে বিষয়ে ফিফার "একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত" নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। বিশ্বকাপের বিধানের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "ফিফা চাইলে সংশ্লিষ্ট সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্য কোনো অ্যাসোসিয়েশন দিয়ে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।"

তবে ইতালির অর্থনীতি মন্ত্রী জানকার্লো জর্জেত্তি জামপোলির এই ধারণাকে "লজ্জাজনক" বলে অভিহিত করেছেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া অ্যাবোডি লা প্রেস-কে বলেন, "প্রথমত এটি সম্ভব নয়, দ্বিতীয়ত এটি সমীচীনও নয়... যোগ্যতা অর্জন করতে হয় মাঠের লড়াইয়ে।" ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট লুসিয়ানো বুওনফিগ্লিও-ও এই ধারণার সাথে একমত নন এবং জানিয়েছেন এমনটা হলে তিনি "অপমানিত" বোধ করবেন।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, "আমরা আশা করি তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। সেটি অবশ্যই সহায়ক হবে। কিন্তু ইরানকে তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আসতে হবে। তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তারা বেশ ভালো একটি দল। তারা খেলতে চায় এবং তাদের খেলতে দেওয়া উচিত। খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত।"

গত মার্চে তুরস্কে ইরান দলের সঙ্গে দেখা করার পর ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছিলেন যে তাদের ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই হবে। যদিও ইরান ফুটবল ফেডারেশন আগে জানিয়েছিল যে তারা ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে।

বুধবার আল জাজিরা জানিয়েছে, সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নিতে "পুরোপুরি প্রস্তুত"।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময়ও জামপোলি যখন জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত ছিলেন, তখন ফিফার কাছে একই ধরনের অনুরোধ করেছিলেন। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইরান বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কথা বললেও, ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানকে বিশ্বকাপে "স্বাগত" জানানো হবে, যদিও তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অংশ নেওয়া উচিত নয় বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউস ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর