বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইতালির ফুটবল পতনের নেপথ্যে কি পতিতাবৃত্তি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ইতালির ফুটবল পতনের নেপথ্যে কি পতিতাবৃত্তি

এক সময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দেশ হিসেবে পরিচিত ইতালি এখন যেন নিজেদের ছায়াও খুঁজে পাচ্ছে না। মাঠের ব্যর্থতা আর মাঠের বাইরের বিতর্ক দুইয়ের চাপে ইতালিয়ান ফুটবল আজ বড় এক সংকটের মুখে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলেও হতাশাজনক পারফরম্যান্স। 

২০২৫-২৬ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোনো ইতালিয়ান ক্লাব কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। এমনকি উয়েফা ইউরোপা লীগ এবং উয়েফা ইউরোপা কনফারেন্স লীগেও ইতালির প্রতিনিধিত্ব না থাকা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন অবনতির পিছনে উঠে এসেছে কয়েকটি কারণ। সব চেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পতিতাদের খদ্দের হওয়ার পাশাপাশি তাদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এমনটায় জানায় ইতালির জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লোর এক প্রতিবেদনে। 


বিজ্ঞাপন


মিলানভিত্তিক বিলাসবহুল ইভেন্ট প্রমোশন সংস্থা মা.দে মিলানোকে ঘিরে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে গুরুতর অভিযোগ। তদন্ত সূত্রে জানায়, ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি আ এর ৭০ জনেরও বেশি ফুটবলার এই সংস্থার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

7e15e33876511c7cf3d03d2d343ebece

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই সংস্থার আড়ালে উচ্চবিত্ত পার্টি ও বিতর্কিত লেনদেন চলত, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। যদিও এখনো সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই ঘটনা ইতোমধ্যেই ইতালিয়ান ফুটবলের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ইতালির জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লো জানায়, তদন্তে পাওয়া ফোনালাপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। একটি কথোপকথনে শোনা যায়, একজন ব্যক্তি বলছে একজন ফরমুলা১ ড্রাইভার মিলানে আসছেন এবং তিনি টাকার বিনিময়ে একজন নারী চান।


বিজ্ঞাপন


তদন্তে অন্তত ৫০ জন নিয়মিত গ্রাহকের তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে আছেন ব্যবসায়ী, ভিআইপি এবং বিশেষ করে সিরি আ লিগের বেশ কয়েকজন ফুটবলার। যদিও এখনো তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তারা ইন্টার মিলান বা এসি মিলানের খেলোয়াড় নন।

মা.দে মিলানো ইভেন্ট আয়োজক হিসেবে প্রচার করলেও, তদন্তে দেখা গেছে এটি ছিল একটি অবৈধ নেটওয়ার্কের আড়াল। ধনী ও তারকা খদ্দেরদের জন্য তারা বিশেষ ‘পোস্ট-ম্যাচ’ প্যাকেজ অফার করত। মিলানের নামকরা রেস্তোরাঁয় ডিনার, বিলাসবহুল হোটেলে রাত কাটানো এবং সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে সময় কাটানো। অনেক সময় ‘লাফিং গ্যাস’ (নাইট্রাস অক্সাইড) বা ‘বেলুন ড্রাগ’ও সরবরাহ করা হতো, যা ক্রীড়াবিদদের ডোপ টেস্টে সাধারণত ধরা পড়ে না। এসি মিলান, ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, হেলাস ভেরোনা, তোরিনো, মোনজা ও সাসসুয়োলোর খেলোয়াড়রা এসব পার্টিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

69e7a3b2e28b2.r_d.1514-538-2092

এমনকি ফর্মুলা ওয়ানের একজন চালকের নামও উঠে এসেছে একটি আড়িপাতা কলে। সেখানে একজন বলছিলেন, “আমার এক বন্ধু এফ১-এর ড্রাইভার। সে আজ রাতে মিলানে আসছে, একটা মেয়ে চায়।” তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ১০০ জন তরুণী এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দালালরা খদ্দেরের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন নিতেন। ফুটবলাররা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সংস্থাটিকে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ইউরো (প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা) দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এই অপারেশন থেকে প্রায় ১২ লাখ ইউরো (প্রায় ১৭ কোটি টাকা) আয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে সংস্থার প্রধান দম্পতি ইমানুয়েলে বুটিনি ও ডেবোরাহ রনচি রয়েছেন। তবে কোনো ফুটবলারকে এখনো তদন্তের আওতায় আনা হয়নি। ইতালির আইনে যৌনকর্মীর খদ্দের হওয়া অপরাধ নয়, তাই খেলোয়াড়দের নাম প্রকাশ করা হয়নি তদন্তের স্বার্থে। দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লো জানায়; একজন যৌনকর্মীর অভিযোগ অনুসারে, এক ফুটবলারের সঙ্গে রাত কাটানোর পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অনেক ঘটনা কোভিড লকডাউনের সময়ও চলেছে বলে জানা গেছে।

ইতালির ফুটবল এমনিতেই ধুঁকছে। জাতীয় দলের ব্যর্থতা, ক্লাবগুলোর ইউরোপীয় সাফল্যের অভাব এবং অবকাঠামোগত সমস্যার মাঝে এই কেলেঙ্কারি আরও বেশি প্রভাব ফেলছে ভবিষ্যতে। এমন ঘটনা খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ও মানসিক প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতালিয়ান ফুটবল কি এই কলঙ্ক মুছে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? তা সময়ই বলে দেবে।

এসটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর