ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা আর আমাদের মাঝে নেই, তবুও তাকে ঘিরে গল্প যেন থামেই না। এবার সামনে এল এক ব্যক্তিগত ও আবেগময় অধ্যায় তার ছেলে দিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র জানালেন, কীভাবে জীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে তিনি সত্যিকারের বাবাকে খুঁজে পান।
স্প্যানিশ টিভি শো ‘লা রেভুয়েলতা’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা জুনিয়র জানান, বাবার সঙ্গে তার প্রকৃত সম্পর্ক গড়ে ওঠে যখন তার বয়স ২৯ বছর। যদিও ১৭ বছর বয়সে তাদের একবার দেখা হয়েছিল, সেটি ছিল মাত্র ৪০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও পরিচালক ডেভিড ব্রনকানো নিজেই বললেন, ‘কখনো ভাবিনি এই নামটা এখানে উচ্চারণ করব।’
বিজ্ঞাপন
১৯৮৬ সালে ইতালিতে জন্ম নেওয়া ম্যারাডোনা জুনিয়র তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছাড়াই বড় হয়েছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি সব সম্মান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন। নেপলসে থাকেন এবং ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করেন। গত বছর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে (টেনেরিফে) প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় তিনি ‘লা রেভুয়েলতা’ দেখতে শুরু করেন এবং অনুষ্ঠানটি এতটাই পছন্দ হয় যে নিজেই আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ম্যারাডোনা জুনিয়র তার বাবার জীবন নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘বাবার জীবন ছিল জটিল কিন্তু সুন্দর। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করা মানুষ। কঠিন সময়ও কেটেছে, ভুল করেছেন, শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু কাউকে ক্ষতি করেননি।’
তিনি আরও বলেন, বাবার উচিত ছিল তিনটি বিশ্বকাপ জেতা। ‘১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
মেসি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘মেসির সঙ্গে আমার পরিচয় নেই, তার ঘনিষ্ঠজনরা চাননি। মানুষ হিসেবে মেসি নাম্বার ওয়ান। কিন্তু আমার বাবা ছিলেন একজন ঈশ্বর।’
বিজ্ঞাপন
বাবার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘২৯ বছর পর আমরা ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলি। যখন সম্পর্ক ছিল না, তখনও মানুষ আমার কাছে এসে বাবার কথা বলত। তিনি সবসময় আমার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। আজও তিনি সবচেয়ে উপস্থিত অনুপস্থিত ব্যক্তি। মাঠে-মাঠের বাইরে তিনি অনেক আনন্দ দিয়েছেন। যে অল্প সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি, সেটা ছিল খুব সুন্দর এবং মজার। তিনি ছিলেন আমার সবচেয়ে সুখের দিনগুলোর অধিনায়ক।’
সম্পর্ক মেরামতের গল্পটাও ছিল আকর্ষণীয়। ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘বাবা টেলিভিশনে আমার একটা সাক্ষাৎকার দেখে বলেন, আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি তার সঙ্গে ডিনার করতে যাই। তাঁকে বলি, আমি একটা স্বপ্নের মধ্যে আছি। অতীত নিয়ে কোনো কথা হয়নি, শুধু বর্তমান নিয়ে। এরপর থেকে আমাদের সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়।’
মায়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মা কখনো আমাকে মিথ্যা বলেননি, সবসময় সত্যি বলেছেন।’
এসটি




