চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা দলকে জড়িয়ে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করলেও বেশ কিছু লোমহর্ষক তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে যে, গ্রুপ পর্বে কানাডা বনাম নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের সময় একটি 'ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে' লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি হাত ছিল। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) বর্তমানে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত করছে।
গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচে, বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে করা একটি ব্যয়বহুল এবং অস্বাভাবিক ওভারের পর বাজওয়ার পারফরম্যান্স প্রথম সন্দেহের তালিকায় আসে। স্পট-ফিক্সিংয়ের সন্দেহের পর এসিইউ বাজওয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করেছে।
বিজ্ঞাপন
কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (সিবিসি) একটি রিপোর্ট সরাসরি লরেন্স বিষ্ণোই গ্রুপকে যাকে কানাডায় একটি সহিংস অপরাধী এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এই কথিত কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত করেছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গায়ক সিধু মুসে ওয়ালা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এই গ্যাংটিই বাজওয়ার আকস্মিক অধিনায়ক হয়ে ওঠার পেছনে দায়ী ছিল।
সিবিসি-র সূত্র জানিয়েছে, "গত জুলাইয়ে (২০২৫), একটি বড় প্রাদেশিক টুর্নামেন্টে জয়ের পর প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারির একটি রেস্তোরাঁয় জড়ো হয়েছিলেন। টুর্নামেন্টের দুজন খেলোয়াড় একটি টেবিলের কাছে যান যেখানে কানাডার জাতীয় পুরুষ দলের একজন তারকা ডাইনিং করছিলেন। তারা দাবি করেন যে তারা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং ওই খেলোয়াড়কে হুমকি দিয়ে বলেন যে, যদি তিনি দিলপ্রীত বাজওয়া এবং অন্য একজন তরুণ খেলোয়াড়ের পদোন্নতিকে সমর্থন না করেন, তবে তিনি এবং তার পরিবার ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হবেন।"
রিপোর্টে 'নোহ' নামে পরিচিত অন্য এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাকে এই গ্যাংটি হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এই সিন্ডিকেট নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসক এবং খেলোয়াড়কে ক্ষমতার অবস্থানে বসানোর চেষ্টা করছে।
এই অভিযোগগুলোর কেন্দ্রে থাকা এক ব্যক্তিত্ব হলেন বাজওয়া, যার ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, গ্যাংটি হুমকির মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করেছিল যেন তিনি স্কোয়াডে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে নেতৃত্বে উন্নীত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
নোহ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে: "আমি এর বিরোধিতা করেছিলাম, এবং এর ৪০ মিনিটের মধ্যে আমি একই নম্বর থেকে একটি বার্তা পাই যা আমাকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল কারণ এতে একটি ছবি ছিল।"
সিবিসি রিপোর্ট ক্রিকেট কানাডার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আরভিন্দর খোসার উত্থানকেও এই ঘটনাগুলোর সাথে যুক্ত করেছে এবং যারা হুমকি দিয়েছিল তাদের সাথে তার কথিত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছে। খোসা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং এগুলোকে তার সুনাম নষ্ট করার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
খবরে বলা হয়েছে যে, তিনি রেস্তোরাঁয় ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট আমজাদ বাজওয়ার সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন, যদিও আমজাদ বাজওয়া এই ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছেন।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, খোসা সেই গোষ্ঠীর অংশ ছিলেন যারা বাজওয়াকে অধিনায়ক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এমনকি তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগেই। নোহ বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তারা অর্থ উপার্জনের জন্য ম্যাচ ফিক্স করতে চেয়েছিল। এই কারণেই তারা তাকে ক্ষমতায় চেয়েছিল। তাকে অধিনায়ক করার জন্য তাদের এতদূর যাওয়ার আর কী কারণ থাকতে পারে?"
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, কানাডার সাবেক কোচ খুররম চৌহানকে এর আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আমজাদ বাজওয়া, সিইও সালমান খান এবং বোর্ড সদস্য রানা ইমরান ম্যাচের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ফিক্স করতে বলেছিলেন।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি এবং গুলি চালানোসহ ধারাবাহিক সহিংস ঘটনার পর কানাডা সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংই বলিউড অভিনেতাকে সালমান খানকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিলে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মুম্বাইয়ের ওরলির (মুম্বাইয়ের দক্ষিণাংশে অবস্থিত) ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের একটি হোয়াটসঅ্যাপ সালমানের নামে একটি হুমকির বার্তা পাঠিয়েছেন।
সূত্রের খবর অভিনেতাকে তার মুম্বাই বাসভবনের ভিতরে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি গাড়িতে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।




