জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে পাকিস্তান সুপার লিগ থেকে দেওয়া দুই বছরের নিষেধাজ্ঞাকে "অত্যন্ত বাড়াবাড়ি" বলে অভিহিত করেছেন তার এজেন্ট রব হামফ্রেস। গত সপ্তাহে পিএসএল এই শাস্তির ঘোষণা দিলে সম্প্রতি তার এজেন্সি থেকে একটি পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়।
পুরো ঘটনাটি মূলত আইপিএল এবং পিএসএল-এর মাঝে মুজারাবানির দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মুজারাবানির এজেন্টের দাবি অনুযায়ী, লিগ কর্তৃপক্ষ এবং খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনো 'আইনিভাবে বাধ্যতামূলক' চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, "আমরা গত ছয় সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে চুপ ছিলাম কারণ আমরা পাকিস্তান সুপার লিগ বা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এমন কোনো শত্রুতা বা বিবাদ তৈরি করতে চাইনি যা তারা ইতিমধ্যে নিজেদের জন্য তৈরি করে রেখেছে।"
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদ ইউনাইটেড মুজারাবানির সাথে যোগাযোগ করে এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের 'অনাপত্তি পত্র' পাওয়া সাপেক্ষে একটি মৌখিক সম্মতি দেওয়া হয়। এনওসি পেতে হলে একটি লিখিত চুক্তিনামা প্রয়োজন হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও (২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) পিএসএল কোনো অফিসিয়াল চুক্তিপত্র পাঠায়নি। ঠিক সেই সময়েই আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বড় অংকের প্রস্তাব (প্রায় ১,৬০,০০০ ডলার) নিয়ে আসে এবং মুজারাবানি সেটি গ্রহণ করেন।
এজেন্ট রব হামফ্রেস বলেন, "যে চুক্তি আপনি কখনও হাতেই পাননি, সেটি ভঙ্গ করার প্রশ্নই ওঠে না। এই নিষেধাজ্ঞা পিএসএল কর্তৃপক্ষের একটি প্রশাসনিক ভুল ছাড়া আর কিছুই নয়।"
অন্যদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের অবস্থানে অনড়। তাদের মতে, পারিশ্রমিক ও অন্যান্য শর্তাদি নিয়ে ইমেইলে বা লিখিতভাবে সম্মতি দিলে সেটি চুক্তির সমান বলে গণ্য হয়। মুজারাবানি সব শর্তে রাজি হয়েও পরবর্তীতে আইপিএলের প্রস্তাব পেয়ে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। পিসিবি মনে করে, এটি একটি অপেশাদার আচরণ এবং এ কারণেই তাকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিএসএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশ একই কাজ (পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে যাওয়া) করলে তাকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে মুজারাবানির ক্ষেত্রে শাস্তি বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে পিসিবি বলছে, বশ ক্ষমা চেয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন, যা মুজারাবানি করেননি।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে মুজারাবানি কেকেআর-এর হয়ে আইপিএল খেলতে ব্যস্ত থাকলেও, পাকিস্তানের ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টে তার ফেরার পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকার ক্ষেত্রে পিএসএল কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তিনিও ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দিতে পিএসএল ছেড়েছেন।




